ভারতের নতুন মাথাব্যথার কারণ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাংলাদেশের জন্য সুযোগ কতটা?

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র। এই তিন দেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার প্রচলিত শক্তির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। এ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে পাকিস্তানের। একদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অন্যদিকে নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সৌদি অর্থায়ন এবং তুরস্কের ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সুবিধা। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত পরিসর বাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর সেটিই ভারতের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
কারণ নয়াদিল্লিকে ভবিষ্যতে শুধু পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক শক্তি নয়, তার পেছনে গড়ে ওঠা বৃহত্তর সহযোগিতা নেটওয়ার্ককেও নিরাপত্তার হিসাবে রাখতে হবে। তবে এই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির নয়, বরং সুযোগেরও। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক বলয়ের অংশ না হয়ে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগ, তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা থেকে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে মক্কা চুক্তি ভারতের জন্য যেখানে নতুন কৌশলগত উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের সামনে খুলতে পারে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন ক্ষেত্র।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ঐকমত্যের বিষয় হলো তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই নীতিকে কারিগরি দিক থেকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, একটি দেশ আক্রান্ত হলেই অন্য দুই দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে যাবে। সহযোগিতার ধরন রাজনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তাই, ভারতের জন্য প্রশ্নটি শুধু ‘পাকিস্তানের হয়ে সৌদি আরব বা তুরস্ক যুদ্ধে নামবে কি না’ এখানে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বড় প্রশ্ন হলো এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদে কতটা সামরিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
মক্কা চুক্তির তিন সদস্যের মধ্যে পাকিস্তানের জন্য এর কৌশলগত গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হতে পারে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে বড় সামরিক বাহিনী, নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ভারতের তুলনায় তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক ছোট। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ক্রয়, গবেষণা, অস্ত্র উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা পাকিস্তানের একটি বড় সমস্যা। সৌদি আরব সেই দুর্বলতার একটি অংশ পূরণ করতে পারে। অন্যদিকে তুরস্ক দিতে পারে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা। মক্কা চুক্তির অধীনে স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়া ছাড়াও আকাশ প্রতিরক্ষা, চালকবিহীন ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি সহযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক সরবরাহব্যবস্থাও এই কাঠামোর অংশ। ফলে সৌদি অর্থ ও তুর্কি প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য একটি আকর্ষণীয় সমীকরণ তৈরি হতে পারে, এই সমন্বয় বাস্তব রূপ পেলে পাকিস্তান শুধু অস্ত্র কিনবে না। বরং প্রযুক্তি গ্রহণ, যৌথ উৎপাদন এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। আর এখানেই ভারতের উদ্বেগ।
তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, চালকবিহীন সামরিক ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। মক্কা চুক্তিতে এসব ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় পাকিস্তান তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি থেকে সরাসরি লাভবান হবে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এসব সক্ষমতা শুধু প্রচলিত যুদ্ধবিমান বা ট্যাংকের বিকল্প নয়। শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্ত করা, লক্ষ্য নির্ধারণ, নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুযোগ তৈরি করে। পাকিস্তান যদি তুরস্কের সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন বা প্রযুক্তি স্থানান্তর বাড়াতে পারে, তাহলে ভারতের প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কিছু জায়গায় নতুন চাপ তৈরি করবে।
এখানে সৌদি আরবের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। রিয়াদের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা। সৌদি বিনিয়োগ বা অর্থায়ন যদি পাকিস্তান-তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে প্রবেশ করে, তাহলে পাকিস্তানের জন্য ব্যয়বহুল অস্ত্র ও প্রযুক্তি উন্নয়ন অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এটি শুধু অস্ত্র কেনার প্রশ্ন নয়। নতুন যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, সেন্সর, যোগাযোগ প্রযুক্তি কিংবা সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও বিপুল অর্থ প্রয়োজন। পাকিস্তানের নিজস্ব অর্থনীতি সে ব্যয় বহনে সীমাবদ্ধ। সৌদি মূলধন সেই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ করতে পারে।
এর পাশাপাশি পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্বও পাবে। ফলে ইসলামাবাদের কৌশলগত পরিসর শুধু দক্ষিণ এশিয়া ও চীনকেন্দ্রিক না থেকে আরব বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতেও বিস্তৃত হতে পারে। পাকিস্তানের জন্য এটিই সম্ভবত মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় অর্জন। সামরিক শক্তির সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বের বিস্তার।
এদিকে ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক সমস্যা সৌদি বা তুর্কি বাহিনী নয়। প্রধান সমস্যা হচ্ছে পাকিস্তানের পেছনে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়া। ভারতের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। সৌদি অর্থায়ন, তুরস্কের ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে গভীর সহযোগিতা তৈরি হলে পাকিস্তানের সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে পারে। ভারত এতদিন পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণের সময় প্রধানত চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে বিবেচনায় রেখেছে। মক্কা চুক্তির পর পাকিস্তান এখন একই সঙ্গে দুই ভিন্ন কৌশলগত নেটওয়ার্কের সংযোগবিন্দু হতে পারে। একদিকে চীন-পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতা, অন্যদিকে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা কাঠামো।
কিন্তু চীন মক্কা চুক্তির সদস্য নয়। ফলে চার দেশের একটি যৌথ সামরিক জোট তৈরি হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। কিন্তু পাকিস্তান উভয় ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে পরোক্ষ সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়া চীনের জন্যও কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। পাকিস্তান চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত অংশীদার। যদি পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেয়, তাহলে বেইজিং তার পুরোনো অংশীদারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশে আরও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। এদিকে, পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থলে আরও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠলে চীন তার মাধ্যমে নতুন কৌশলগত সুযোগ পেতে পারে।
চীনের আরেকটি স্বার্থ হলো জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগর চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যদি এসব অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ায়, সেটিও পরোক্ষভাবে চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে মক্কা চুক্তি কীভাবে কাজ করবে? এখনই এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। এক দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলা হলেও সহযোগিতার ধরন স্বয়ংক্রিয় নয়। ফলে সীমান্তে সংঘর্ষ হলেই সৌদি আরব বা তুরস্ক ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামবে, বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও যুদ্ধকালীন সহায়তার আরও অনেক পথ রয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ, ড্রোন, যন্ত্রাংশ, গোয়েন্দা তথ্য, অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা কূটনৈতিক সমর্থন। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে এই ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যুদ্ধ শুরু হলে কে পাকিস্তানের হয়ে লড়বে, সেটি নয়। বরং পাকিস্তানের যুদ্ধক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখতে কে কে সাহায্য করবে।
এই নতুন সমীকরণে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য নয়। ফলে এর সমন্বিত প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন লোহিত সাগরকেন্দ্রিক বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ-সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়ছে। ফলে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হলে বাংলাদেশের সামনে কিছু বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সামরিক প্রশিক্ষণ, ড্রোন ও চালকবিহীন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং যৌথ মহড়া। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহযোগিতা নিতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় স্বার্থ হচ্ছে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের নিরাপত্তা। বাংলাদেশের ইউরোপমুখী বাণিজ্যের বড় অংশ এই সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে পরিবহন খরচ ও পণ্য পৌঁছানোর সময় দুটোই বাড়ে। ফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়লে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবেও উপকৃত হতে পারে।
এদিকে সুযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশের সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আবার ভারত তার নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদার। চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে।
ফলে বাংলাদেশ যদি সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানকেন্দ্রিক নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছ থেকে প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ নিতে চায়, তাকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেটি কোনো ভারত বিরোধী সামরিক বলয়ে যোগ দেওয়ার অর্থ বহন করছে না।
বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত এটিই সবচেয়ে লাভজনক পথ। সৌদি বিনিয়োগ, তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও পাকিস্তানি সামরিক প্রশিক্ষণের সুবিধা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
মক্কা চুক্তিকে এখনই ভারতবিরোধী সামরিক জোট বলা যাবে না। সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়েরই ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আবার চুক্তিটির সামরিক কার্যকারিতাও এখনো পরীক্ষিত হয়নি। তারপরও এটি ভারতের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এর মূল কারণ, ভারতের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এখন এমন একটি ব্যবস্থার অংশ, যেখানে একদিকে রয়েছে সৌদি অর্থনৈতিক শক্তি, অন্যদিকে তুর্কি সামরিক প্রযুক্তি। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের পুরোনো কৌশলগত সম্পর্কও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের ভারত-পাকিস্তান সমীকরণটি হতে পারে আরও জটিল হতে পারে।
পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক শক্তি, চীনের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, তুরস্কের প্রযুক্তি ও সৌদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা। এই চার উপাদান যদি কখনো সমন্বিতভাবে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে, সেটিই নয়াদিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠবে। তাই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আজই ভারতের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে গেছে, এমন বলা হয়ত তাড়াহুড়ো হবে। কিন্তু এটি যে ভারতের নিরাপত্তা হিসাবের নতুন মাথাব্যথা হয়ে উঠতে পারে, সেই সম্ভাবনা আর উপেক্ষা করার মতো নয়।
পিটি/এমএ
সাম্প্রতিক সংবাদ

বামের মশাল ছেড়ে ডানের চেরাগ হাতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

‘সরকারবিরোধী লেখা’ প্রকাশে কর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশ ডিবিসি'র

বিএনপির দাবিটি অসত্য, সরকারের ৬ মাসে হয়েছে ৭ বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৭ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
গুলি, হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ

