চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যূত্থান চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মী প্রজ্ঞাদ্বীপ মণ্ডল এখন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সম্প্রতি শুরু করা জাতীয় দৈনিক আগামীর সময়ে ‘শিক্ষানবিশ রিপোর্টার’ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ বেঙ্গল লেন্সের হাতে এসেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ জুলাই ২০২৪ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ও ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে ১০ নম্বর ছাত্র হল (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল)-এর সামনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, একই দিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে আশ্রয়প্রার্থী আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী ও সেখানে অবস্থানরত শিক্ষকদের উপর পেট্রোলবোমা ও অস্ত্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের নিয়ে হামলার ঘটনায় সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত অধিকতর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ২ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিন বোর্ডের সভার সুপারিশ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়’। সেদিন হামলার দায়ে ১৮৯ জন সাবেক ছাত্রলীগকর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়।



শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় ১২ নম্বর ক্রমিকে নাম রয়েছে বর্তমানে আগামীর সময়ে কাজ করা প্রজ্ঞাদ্বীপের। অফিস আদেশের তথ্যানুযায়ী, তিনি ৫১তম ব্যাচের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই বছর মেয়াদে বহিষ্কৃত তিনি।
এছাড়া প্রজ্ঞাদ্বীপ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র। প্রজ্ঞাদ্বীপ নিজেও এটি অস্বীকার করেন নি। সম্প্রতি ‘আগামীর সময়’-এর ওয়েবসাইটে ‘১০ টাকার শরবতে লাখ টাকার রোগ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রজ্ঞাদ্বীপের স্বনামে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পত্রিকাটিতে রিপোর্টার হিসেবে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পত্রিকার ওয়েবসাইটে রিপোর্টার্স পোর্টফোলিওতেও তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে প্রজ্ঞাদ্বীপ মন্ডল বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আমি আমার আগের পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি এখন এখানে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না’
এর আগে শাস্তি থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তবে কোনো প্রমাণ দিতে পারেন নি তিনি।
এ নিয়ে আগামীর সময় পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা মামুন জানান, ‘প্রজ্ঞাদ্বীপের এই বিষয়টি আমরা জানতাম না। আজ প্রথম শুনলাম।’
এ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা জানলাম। এটি বিবেচনা করে দেখা হবে।’
এমএম/ আরএ/