স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে নিজামীপুত্রের লেখা মতামত কেন সরিয়ে নিল ডেইলি ওয়াদা?

এ বিষয়ে বেঙ্গল লেন্সকে মোহাম্মদ নকিবুর রহমান বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আমার মতামতটি সরিয়ে নেওয়ার পর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি ওখানে আপত্তিকর বা মানহানিকর তেমন কিছু লিখি নাই।
বাংলাদেশর স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদের প্রতিষ্ঠান স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটল সংক্রান্ত একটি মতামত প্রকাশিত হওয়ার পরে সরিয়ে নিয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ওয়াদা’। মতামতটি সরিয়ে নিলেও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি।
মতামতটির লেখক ছিলেন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর বড় ছেলে মোহাম্মদ নকিবুর রহমান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট পেমব্রোক-এ ফিন্যান্সের অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ’ শিরোনামে মতামতটি প্রকাশিত হয় বলে জানা গেছে। পরে কখন মতািমতটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংবাদটি পড়তে গিয়ে খুঁজে পাননি এমন একজনের বরাত দিয়ে লেখক বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বেঙ্গল লেন্সকে মোহাম্মদ নকিবুর রহমান বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আমার মতামতটি সরিয়ে নেওয়ার পর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি ওখানে আপত্তিকর বা মানহানিকর তেমন কিছু লিখি নাই। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছি মাত্র।’
কোনো কারণ জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
নকিবুর রহমানের লেখা সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি জাপানের Miyagawa Kensetsu-এর বাংলাদেশি স্থানীয় অংশীদার হিসেবে ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুরসহ তিনটি বড় সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগ, নকশা ও নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই সেতুর সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। জাপানি প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদের প্রতিষ্ঠান Stallion Capital
এ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন সরকারের একজন মন্ত্রীর ছেলে সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীর স্থানীয় অংশীদার হওয়ায় স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না।
তবে এখন পর্যন্ত Stallion Capital-কে কোনো সেতুর চূড়ান্ত নির্মাণকাজ দেওয়া হয়নি; প্রকল্পগুলো এখনও সরকারি অনুমোদন ও PPP প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
সাঈদ ইব্রাহীম ফেসবুকের এক পোস্টে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, “সেতু প্রকল্পগুলো PPP কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব প্রকল্পের কোনো প্রশাসনিক সংযোগ নেই।”
নকিবুর রহমান তার লেখায় সাঈদ ইব্রাহীমের দেয়া যুক্তি খন্ডন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন কিভাবে এই প্রকল্পে সাঈদ ইব্রাহীমের যুক্ত থাকাটা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে।
এমজিএইচ গ্রুপের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম তেইলি ওয়াদা এবছর ২৬ শে মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করে। সম্পাদক শফিকুল আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ছিলেন।
২০২২ সালে ১৩৬ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিস আহমেদ গোর্কির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তা প্রত্যাহার করা হয়।
কী ছিল প্রকাশিত সেই মতামতে
নকিবুর রহমানের ওই লেখায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল’-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশাল আর্থিক বিতর্ক ও তার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সাঈদ আহমেদ সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন যে, তার কোম্পানি জাপানের ‘মিয়াগাওয়া কেনসেটসু’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আনতে মধ্যস্থতা করেছে। তবে মূল সন্দেহটি তৈরি হয়েছে ওই জাপানি কোম্পানির আকার নিয়ে; কারণ আন্তর্জাতিক তথ্যমতে, কোম্পানিটিতে মাত্র আটজন কর্মী কাজ করেন। এত ছোট একটি কোম্পানি কীভাবে এত বিপুল অঙ্কের অর্থায়ন করছে, তা নিয়ে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন।
সাঈদ আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে আরও দাবি করেছিলেন যে, তার বাবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকায় এখানে কোনো ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) নেই এবং তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কাজকে ম্যাককিনসির মতো আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করেছেন।
তবে নকিবুর রহমান এই যুক্তিগুলো খণ্ডন করে বলেছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত কেবল সরাসরি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং রাজনৈতিক প্রভাব, সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার বিষয়টিও এখানে ব্যাপকভাবে জড়িত। এছাড়া, এটি আসলেই বিদেশি বিনিয়োগ নাকি সরকার এখানে কোনো প্রচ্ছন্ন ঋণ বা দায় নিচ্ছে এবং যথাযথ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের (Competitive Bidding) মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয়েছে কিনা, সেসব বিষয়েও আইনি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লেখক এই ঘটনাকে এখনই সরাসরি ‘দুর্নীতি’ বা ‘অর্থ পাচার’ বলে রায় দেননি, বরং তিনি এই পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের মতো একটি বিশাল চুক্তি কেবল একটি ফেসবুক পোস্টের আশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মনে করেন।
তাই দরপত্রের রেকর্ড, অর্থায়নের প্রকৃত উৎস, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের সম্ভাব্য পারিশ্রমিকের পরিমাণ এবং চুক্তির নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি জানান তিনি। রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের ব্যবসার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড যে আরও কঠোর হওয়া উচিত, সেটিই ছিল লেখাটির মূল বার্তা।
সাম্প্রতিক সংবাদ

নিষিদ্ধ আ.লীগ-সংশ্লিষ্ট ধর্ষণ মামলার মূল আসামি নোবেল এখনও ইত্তেফাকের সাংবাদিক!

ওয়াই-ফাই এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে মুফতি জয়নাল আবেদিন কাদেরী ও ডা. নাবিলের দাবিগুলো কতটা সত্য!

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হামলা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে চাপ

সময় টিভির আগস্ট মাসের ‘সম্পাদকীয়’ টকশোতে বিএনপির অতিথি ৩৬, জামায়াত ১৩, এনসিপি ১১

