মিডিয়া লেন্স

নিষিদ্ধ আ.লীগ-সংশ্লিষ্ট ধর্ষণ মামলার মূল আসামি নোবেল এখনও ইত্তেফাকের সাংবাদিক!

সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকের ডিজিটাল প্লাটফরমে পারভেজ চোকদার নোবেলকে তার নিজ নামীয় একটি কন্টেন্ট প্রচার করতে দেখা গেছে।

ধর্ষণ মামলার মূল আসামি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা এবং নারী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা করে কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ রয়েছে ফরিদপুরের পারভেজ চোকদার নোবেলের। তবে এসব সংবেদনশীল অভিযোগ নিয়েও নোবেল এখন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন দৈনিক ইত্তেফাকে।

সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকের ডিজিটাল প্লাটফরমে পারভেজ চোকদার নোবেলকে তার নিজ নামীয় একটি কন্টেন্ট প্রচার করতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর ২৪ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এলে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন নোবেল। নারী সমন্বয়ক ও নারী রাজনীতিবিদদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির দায়ে আটক হলেও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ২২ টি পেজ চালানোর প্রমাণ মেলে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।

আটক নোবেল

শাহবাগ থানায় আটকের পর তোলা ছবি। সংগৃহীত


তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমের অভিযোগ অনুযায়ী, তার মোবাইল ফোনে ২২টির বেশি অনলাইন চ্যানেল ও পেজের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে নোবেলের ছবি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তখন সামনে আসে। আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান ও নিক্সন চৌধুরীর সাথেও মিলেছিল একাধিক ছবি।

নিক্সন চৌধুরীর সাথে

নোবেলের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত


এছাড়াও গত বছরের ২৫ আগস্ট গাজীপুরে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে নোবেলের বিরুদ্ধে। এঘটনায় হওয়া মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৫ আগস্ট পারভেজ চোকদার নোবেল প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভিকটিমকে (১৯) গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় নিয়ে যায়। পরের দিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায় রাত আনুমানিক ১১টায় কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী মোজারমিল এলাকার একটি নির্জন স্থানে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ২৮ আগস্ট ভিকটিম কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী কাশিমপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে আসামিকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০ পুলিশে হস্তান্তর করে।

54

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সনের নামে পরিচালিত পেজে এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে নোবেলের একাধিক ছবি পাওয়া গেছে। এসব ছবি নোবেলের নিজস্ব ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।


সংবেদনশীল ইস্যুতে কারাভোগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সংবাদকর্মীর পরিচয়ে তার প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অতীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নারী নেত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাকে সম্প্রতি প্রচারিত নোবেলের কনটেন্ট

সম্প্রতি ইত্তেফাক ডিজিটালে প্রকাশিত নোবেলের প্রতিবেদন। ছবি : ইত্তেফাক ফেসবুক পেজ


তবে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পারভেজ চোকদার তখন তাদের সাংবাদিক ছিলেন না। এর আগে তিনি ইত্তেফাক ডিজিটালে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যুক্ত থাকলেও ছয় মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজে সম্প্রতি তার কন্টেন্ট প্রচার এবং তার বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন নিউজ এডিটর রেজোয়ানা রিন্তি বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘অনলাইনে নোবেল নামে অফিসিয়ালি কোনো এমপ্লয়ি নেই।’

সংবাদমাধ্যমটির মাল্টিমিডিয়া প্রধান ফখরুল ইসলাম বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘মাল্টিমিডিয়া বিভাগে এরকম কেউ নেই।’ পরে নোবেলের প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমাদের কন্ট্রিবিউটর হিসেবে থাকতে পারে।’

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশক তারিন হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আমি এখন ইত্তেফাকের সাথে নাই। আমি কিছু জানি না।’

তবে ছাপা পত্রিকায় এবং অনলাইনে প্রকাশক হিসেবে এখনও ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেনের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমএম/ আরএ/ইএফ