মিডিয়া লেন্স

বকেয়া পরিশোধ না করে উল্টা মিথ্যাচার করেছেন নূরুল কবীর, অভিযোগ সাবেক সংবাদকর্মীর

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরের বিরুদ্ধে বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন পত্রিকার সাবেক এক সংবাদকর্মী। ২০২১ সালে পদত্যাগের পর থেকে বকেয়া পাওনা না পেয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করে গত ২৬ আগস্ট নূরুল কবীরকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পত্রিকাটির সাবেক জুনিয়র রিপোর্টার মনজুর এইচ. মাসুদ।

খোলা চিঠিতে মনজুর এইচ. মাসুদ লিখেন, ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি নিউ এজ থেকে পদত্যাগ করেন এবং লিখিতভাবে তার চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধের অনুরোধ জানান সম্পাদককে। সম্পাদক নূরুল কবীর তাকে নিউ এজের তৎকালীন ডেপুটি এডিটর ফরিদ আহমেদ এবং বার্তা সম্পাদক ও নিউ এজ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. শহিদুজ্জামানের কাছে পাঠান। তারা তাকে পুনরায় সম্পাদকের কাছেই ফেরত পাঠান।

এরপর হিসাবরক্ষণ বিভাগে গেলে সেখান থেকে তাকে জেনারেল ম্যানেজার হাবিবের কাছে পাঠানো হয়। হাবিব তাকে জানান, তৎকালীন সরকারের সময়কার আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে নিউ এজ কিস্তিতে পাওনা পরিশোধ করছে। মাসুদের পাওনার পরিমাণ অল্প হওয়ায় তা শিগগিরই পরিশোধ করা হবে বলে সেসময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

চিঠিতে মাসুদ আরও উল্লেখ করেন, সম্পাদক নূরুল কবীর এবং পত্রিকার মালিক শহিদুল্লাহ খান বাদলের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থার কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাওনার জন্য চাপ দেননি এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দিয়েছিলেন। সম্প্রতি পত্রিকার মালিকানা পরিবর্তনের খবর পেয়ে তিনি বকেয়া পাওনার বিষয়ে পুনরায় যোগাযোগ করেন। মাসুদের অভিযোগ, পাওনা পরিশোধের বদলে নূরুল কবীর এখন দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি তার পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সম্পাদক নূরুল কবীর দাবি করছেন এবং হিসাবরক্ষণ বিভাগে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে অজুহাত দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এ নিয়ে নূরুল কবীরের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন তিনি।

চিঠিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মাসুদ জানান, সত্য ও আপসহীন সততার প্রতীক হিসেবে একসময় তিনি নূরুল কবীরকে আদর্শ মানতেন। কিন্তু তার মতো একজন ব্যক্তির এমনভাবে অপরিশোধিত বেতনের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা চরম হতাশাজনক।

এ বিষয়ে দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

চিঠিতে উল্লিখিত নিউ এজের তৎকালীন ডেপুটি এডিটর ফরিদ আহমেদ বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, “এটি অনেক আগের ঘটনা। আমি ঠিক বলতে পারছি না। তাছাড়া আমি এখন নিউ এজে নেই। বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

মঞ্জুর এইচ. মাসুদের খোলা চিঠিতে উল্লেখ ছিল নিউ এইজ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. শহিদুজ্জামানের নাম। যার কাছে বকেয়া পাওনা ইস্যুতে পাঠিয়েছিলেন সম্পাদক নূরুল কবীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আমি কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম না। আমার কাছে পাঠানো হয়েছিল হয়ত সে আমাদের অধীনে কাজ করত তাই। এগুলো তো কাগজপত্র দেখা ছাড়া বলা যাবে না। তবে আমি যতদূর জানি উনি টাকা পেয়েছেন। এমন যারাই গিয়েছিল সবাইকে কমবেশি পরিশোধ করা হয়েছিল।”

শহিদুজ্জামান আরও বলেন, “নিউ এইজ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে আমি এতদিন যদি কোনো অভিযোগ পেতাম, তাহলে সেই হিসেবে কী করণীয় সেটা দেখা যেত। এখন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। আমিও সেখানে নেই।”