আজমেরী হক বাঁধন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিনোদন জগতের সেই হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পীর একজন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজপথে নেমেছিলেন। তিনি ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "মৃত শিশুগুলোর জায়গায় আমার ১২ বছরের সন্তানও থাকতে পারত।"
ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিক হেনস্তা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে এই হামলার শিকার হন বাঁধন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ৮ মিনিটের দিকে Howlader Monirul নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিজ আইডি থেকে লাইভে এসে হামলার ঘটনাটি দেখাতে থাকেন। লাইভের ক্যাপশন দেওয়া হয়, "জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা"
এসময় হামলাকারীরা নিজেদের ভেনিস ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে বলতে শোনা যায়, "জুলাই জঙ্গি! এই যে জুলাই জঙ্গি, যিনি দেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে; এই যে দেখতেই পাচ্ছেন ভেনিসে আছে। আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী জঙ্গি বাংলাদেশকে ধ্বংস করছে; আমরা তাকে গোসল করিয়ে দিয়েছি।
জুলাই জঙ্গি আমাদের মাঝে আসছে—বাঁধন। তারা দেশটা ধ্বংস করছে; আজকে প্রত্যেকটা জায়গায় মানুষের লাশ পাওয়া যায়, বাংলাদেশে কোনো মানুষ শান্তিতে নেই। আমরা ইতালি ছাত্রলীগ; ওরা যেখানেই যাবে, আমরা তাদের প্রতিহত করব।
এই জুলাই জঙ্গি ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ও যেখানেই যাবে, তাকে 'জয় বাংলা' বলতে হবে। টাকার লোভে জুলাই জঙ্গি বাঁধন চলচ্চিত্রের নাম নিয়ে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। এই জঙ্গিকে আমরা শিক্ষা দেব; বাংলাদেশের মাটির তলে গেলেও আমরা শিক্ষা দেব। ভালো থাকব আমরা। তোমাদের মতো জঙ্গিদের আমরা যেখানেই পাব, প্রতিহত করব।"
পরে রাত ১টা ১৫ মিনিটে ফেসবুক লাইভে এসে আজমেরী হক বাঁধন জানান, তিনি তাঁর ভাই ও চার বছরের ছোট ভাতিজার সাথে হোটেলের পাশের একটি পার্কে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। সেখানে একদল বাঙালি ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে এবং শারীরিক হ্যারাসমেন্ট শুরু করে। তারা তাঁর গায়ে পানি ও কোমল পানীয় (কোক) ছুড়ে মারে, যা তাঁকে পুরোপুরি ভিজিয়ে দেয়। আক্রমণকারীরা তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করে, কানের কাছে বাড়ি মারে এবং তাঁর ফোনটি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের চার বছরের শিশু সন্তানটি আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদছিল, আর আক্রমণকারীরা উল্লাস করছিল। বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আজমেরী হক বাঁধন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিনোদন জগতের সেই হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পীর একজন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজপথে নেমেছিলেন। তিনি ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "মৃত শিশুগুলোর জায়গায় আমার ১২ বছরের সন্তানও থাকতে পারত।" ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ারের তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে তাঁর এই অনড় অবস্থানই তাঁকে বিদেশের মাটিতে আওয়ামী সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, "তারা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবি করে আমাকে জোর করে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করছিল"।
বাঁধন বলেন, আমি যে চলচ্চিত্রের কাজে ভেনিসে এসেছি তার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন, যাঁর বাবা আওয়ামী লীগ সরকারেরই একজন মন্ত্রী ছিলেন। এই ধরনের নোংরামি করে আপনাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলে আমার মনে হয় না"।
বর্তমানে নিরাপদ স্থানে থাকলেও এ ঘটনায় তাঁর পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান তিনি। লাইভে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইতালির ভেনিসে অবস্থান করা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে একটি মিটিং করতে চান। তিনি সরাসরি দেখতে চান যে, উনার কর্মীরা বিদেশের মাটিতে একজন অভিনেত্রীর ওপর এমন হামলার পর সজীব ওয়াজেদ জয় কী অবস্থান নেন।