২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয় ভারত।
প্রায় দুই বছর পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্যুরিস্ট ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা কার্যত স্থগিত করেছিল নয়াদিল্লি। দীর্ঘ বিরতির পর গত ২৮ জুন আবারও সেই ভিসা কার্যক্রম চালু হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ কী?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয় ভারত।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ভিসা চালুর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই শুধু কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ভারতের পর্যটন, চিকিৎসা ও খুচরা ব্যবসা খাতে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আসা মোট আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রায় ২৫ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি। ভিসা সীমিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে পর্যটক যাতায়াত কমে যায় প্রায় ৭৩ শতাংশ। ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা প্রতিবেশী নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে পর্যটক বাড়িয়েও সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি ভারত।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চিকিৎসা পর্যটন খাতে। কলকাতা ও চেন্নাইয়ের বড় বড় হাসপাতালের ওপিডি ও আইপিডির প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ রাজস্বই আসত বাংলাদেশি রোগীদের কাছ থেকে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা সীমিত হওয়ার পর ভারতের মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের মেডিকেল ট্যুরিজম খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়। রোগী কমে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোর হাজার হাজার কেবিন খালি পড়ে থাকে এবং চিকিৎসা-নির্ভর ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়ে।
একই পরিস্থিতি তৈরি হয় কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফোরামের দাবি, গত দুই বছরে শুধু এই এলাকাতেই তাদের প্রায় এক হাজার কোটি রুপির বেশি লোকসান হয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পোশাকের দোকানগুলোর বিক্রি নেমে আসে মাত্র ২০ শতাংশে। লোকসানের চাপ বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাতে থাকে।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ব্যবসায়ী মহলের চাপ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির বাস্তবতাই ভারতকে দীর্ঘদিন পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করতে প্রভাবিত করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, বর্তমান টানাপোড়েন থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক সূচনা।
অর্থনৈতিক চাপ, ব্যবসায়ী মহলের দাবি এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে প্রায় দুই বছর পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করেছে ভারত। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দুই দেশের পর্যটন, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমএম/আরএ