ফ্যাক্ট-চেকের নামে বিভ্রান্তি, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা’ দেওয়ার ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর বলে ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্যাক্ট রিভিউ নামে একটি প্লাটফর্ম। তবে বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যটি সঠিক নয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টায় ফ্যাক্ট রিভিউ’র পেজ থেকে পোস্টটি করা হয়। যেখানে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, “এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা শিক্ষাব্যবস্থায় দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি করবে এবং সিদ্ধান্তটি বাতিল করা উচিত।’ তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ভূমিকা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা ও পর্যালোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”

অর্থাৎ, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ এই দাবিটি করা সবার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছে কেবল শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। এদিকে এ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে বেঙ্গল লেন্স দেখেছে, নথিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষামন্ত্রী নিজেই অসত্য তথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকের কার্যবিবরণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নথিটির স্মারক, প্রস্তুতকারী, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও স্বাক্ষরকারী এসব বিশ্লেষণ করে নথিটি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর হওয়ার হওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি বেঙ্গল লেন্স।
কার্যবিবরণীটি প্রাথমিক স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমিক-২ সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার। তিনি স্বাক্ষর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নথি অনুযায়ী মন্ত্রীর প্রস্তাবেই হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। নথিটি ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী নিজেই বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত এনটিআরসিএ মূলত নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মত দেন।
এরপর তিনি এনটিআরসিএকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কার্যবিবরণীতে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, ‘সভায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।’
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ১(ক) ধারায় বলা হয়েছে, এনটিআরসিএ এখন থেকে কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম করবে এবং ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশ করবে না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো ১(গ) ধারাটি। সেখানে বলা হয়েছে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ ‘কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি’ বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং সরকারি সভার কার্যবিবরণীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট।
অসত্য তথ্যের আলোকে ফ্যাক্ট-চেকের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো পেজটিতে প্রতিষ্ঠানটির কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এছাড়া পেজে থাকা মোবাইল নাম্বারটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করে বেঙ্গল লেন্স। তবে নাম্বারটিও সচল ছিল না। পরবর্তীতে পেজে যুক্ত থাকা factreview.net ওয়েবসাইটের ভেতরেও মেলেনি যোগাযোগের কোনো তথ্য।

- ওয়বসাইটে পাওয়া যায়নি প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য। ( ছবি সোর্স: ফ্যাক্ট রিভিউ ওয়েবসাইট)
উল্লেখ্য, পরিচয়, যোগাযোগ ও ঠিকানাবিহীন ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান চালানো ফ্যাক্টচেকিংয়ের মৌলিক নীতিমালা বিরোধী।
সাম্প্রতিক সংবাদ

জামায়াত ও আ.লীগ নিয়ে তারেক রহমানের ‘কথোপকথন’: অডিওটি এআই নির্মিত

ফের ভুয়া ফটোকার্ড পোস্ট করে গুজব ছড়ালেন সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা

৯ বছরের আগের ভিডিও ছড়িয়ে 'হাসিনা মারা যায়নি' দাবি আওয়ামীপন্থীদের

জুলাই চার্টার সম্পর্কে এখনো জানে না দেশের ৫৯ শতাংশ মানুষ

