Bengal Lens
বাংলাদেশ লেন্স

বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গুজব থেকে সতর্ক থাকতে বলছেন ছাত্রদলের নেতারা

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে বিষয়টিকে গুজব বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা। তাদের দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসি থেকে শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির হাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একই দাবি করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানিয়েছে, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

১০ আগস্ট ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব (Md Rakibul Islam Rakib) তার ফেসবুক পেজে উল্লেখ্য করেন, সবাইকে গুজবনির্ভর অপপ্রচার পরিহার করার অনুরোধ করছি। NTRCA নিয়ে সঠিক তথ্য খুব শীঘ্রই জানা যাবে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির (Nasir Uddin Nasir) তার ফেসবুক পেজে উল্লেখ্য করেন, সবাইকে গুজবনির্ভর অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। NTRCA সংক্রান্ত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব শিগগিরই জানা যাবে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করছি।

এছাড়া, ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর জিএস পদপ্রার্থী তানভীর বারী হামিম (শেখ তানভীর বারী হামিম) তার ফেসবুক পেজে উল্লেখ্য করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে 'এনটিআরসি থেকে শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির হাতে ' এরুপ কোন সিদ্ধান্তই আসেনি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে এরুপ কিছু করা যায় কিনা এমন আলোচনা হয়েছিল কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ একটিপক্ষ সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে দিয়ে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে ,অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

তবে বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এনটিআরসিএ’র সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেই সভাতে এনটিআরসিএ-কে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কেবল নিবন্ধন ও সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বহাল রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, 'বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫' অনুসরণে এনটিআরসিএ এখন থেকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ পরিচালনা করবে।

২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি যেসব শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে আসছিল, সেই কার্যক্রম আর বজায় রাখা হবে না।

রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।