Bengal Lens
বাংলাদেশ লেন্স

বিএনপির মিডিয়া সেলে গুপ্ত লীগ সমর্থক, খালেদা জিয়াকে নিয়েও করেছেন কটূক্তি

বিএনপি মিডিয়া সেলের ডিজিটাল টিমে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো: তানিম সুফিয়ানিকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেল।

বিএনপি মিডিয়া সেলের ডিজিটাল টিমে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. তানিম সুফিয়ানিকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের ডিজিটাল টিমের সদস্য (গ্রাফিক্স ডিজাইনার) তানিম সুফিয়ানির পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বিষয়টি পেশাগত স্বচ্ছতা, আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে তাঁকে ডিজিটাল টিমের গ্রাফিক্স ডিজাইনার পদসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতির পর বিএনপি মিডিয়া সেলের নাম, পরিচয়, পদ, দায়িত্ব বা অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের প্রতিনিধিত্ব বা সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও জানানো হয়।

তানিম সুফিয়ানির বিএনপি মিডিয়া সেলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২১ আগস্ট। ওইদিন রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি কাভারেজে সাংবাদিকদের প্রবেশসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একটি চিঠিতে বিএনপি মিডিয়া সেলের ডিজিটাল বিভাগের সদস্য হিসেবে তাঁর নাম দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নিয়ে বিএনপিপন্থী অ্যাকটিভিস্টরা নানা আলোচনা শুরু করেন (এখানে দেখুন, এখানে দেখুন, এখানে দেখুন)।

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর তাকে নিয়ে করা একটি পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তানিম লেখেন, ‘কান্দিস না রে বিন্দিয়া কি আর হইবো কান্দিয়া? কবুল কইরা ১৪ শিকে যা রে হান্দাইয়া।’

এছাড়াও বেঙ্গল লেন্সের যাচাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার কয়েকটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনসূচক বক্তব্যের নমুনা দেখা গেছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি পোস্টে একদফা দাবির প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “ভাই! কি যে উপকারটা করলি তোরা একদফা দিয়া! হাত আর মুখ দুইটাই এখন খুলতে পারুম!”। এছাড়া আরেকটি পোস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশে ক্রিকেটাররা সব বিএনপি করে, দুঃখে সব উইকেট পড়তেছে।”

২০২৩ সালের একটি পোস্টে তাকে লিখতে দেখা যায়, “কেউ আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।” পোস্টটির সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও ৭ মার্চের ভাষণসংক্রান্ত কয়েকটি লাইন যুক্ত ছিল।

এর আগে ২০২২ সালের আরেকটি পোস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি লেখেন, “শুভ জন্মদিন জাতির পিতা।” পোস্টে #Mujib100, #Bangabandu, #SheikhMujiburRahman, #মুজিববর্ষসহ #বঙ্গবন্ধু একাধিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়। পোস্টের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডও যুক্ত ছিল।

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দেওয়া একটি পোস্টেও “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” লেখা দেখা যায়। ওই পোস্টে ব্যবহৃত ফটোকার্ডেও আওয়ামী লীগের লোগো ছিল।

এছাড়া তানিম সুফিয়ানির লেখা দুইটি বইয়ের মধ্যে একটি ‘বিপ্লব ৪.০: ভবিষ্যৎ পৃথিবীর গল্প’। ২০২৩ সালের ১০ মার্চ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বইটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়ার একটি ছবি শেয়ার করেন তিনি।

একই ছবি ৫ মার্চ ২০২৩ সালে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়েছিল। এ ছাড়া তানিম সুফিয়ানির লেখা আরেকটি বই ‘ব্লকচেইন: আগামীর প্রযুক্তি’। বইটি আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের হাতে তুলে দেওয়ার একটি ছবিও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছিল বলে ওই ছবির সন্ধান পাওয়া গেছে। ছবিটিতে তানিম সুফিয়ানিকে জাফর ইকবালের হাতে বইটি তুলে দিতে দেখা যায়।

বর্তমানে ‘তানিম সুফিয়ানি’ নামে ফেসবুকে পাওয়া প্রোফাইলটি লক করা থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া পুরোনো পোস্ট ও ফটোকার্ডগুলো একই ব্যক্তির করা কি না—এ বিষয়ে বেঙ্গল লেন্স শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেনি।

তানিম সুফিয়ানিকে মিডিয়া সেলে নিয়োগ করার জন্য বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান ডা মওদুদ পাবেলকে দায়ী করেছেন বিএনপিপন্থী একটিভিস্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা রুমি আহমেদ মওদুদ পাভেলের সমালোচনা করে ফেসবুকে লিখেছেন, “তানিম সুফিয়ানী কে অব্যাহতি না দিয়ে উপায় ছিল না! ওর ডিজিটাল ক্রাইম ট্রেইল লুকানো বা ইগনোর করার কোনো পথই খোলা ছিল না মিডিয়া সেল এর সামনে!...

মওদুদ পাভেল লোকটা প্রাইম মিনিষ্টার এর আত্মীয়;. তাকে কিছু একটা দিতে হবে! তা দিন - জাতীয় জুডো ফেডারেশন এর প্রধান করে দিন বা জাতীয় মসজিদ এর খতিব করে দিন! আত্মীয় বলে কথা! কিন্তু মিডিয়া সেল এর মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজন ভালো পিআর/কমিউনিকেশন এক্সপার্ট/সোশ্যাল মিডিয়া স্যাভি প্রফেশনাল কে নিয়োগ দিন! এই পাভেল ফাভেল দিয়ে পিআর এর জটিল জরুরি কাজ চলবে না!”