Bengal Lens
বাংলাদেশ লেন্স

কার সাথে ছবি তুলে অনলাইনে বিএনপি সমর্থকদের আক্রমণের শিকার মানসুরা?

প্রতিবেদক: আহমেদ জুনাইদ

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কারো সাথে ছবি তোলার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ইংরেজিতে একটি পোস্ট করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। পোস্টটি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি আবার সেটি ডিলিটও করে দেন। ওই পোস্টে মানসুরা স্পষ্ট করেননি কার সাথে ছবি তোলার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তিনি। শুক্রবার রাতে এবিষয়ে আরও একটি পোস্ট করেন তিনি। ওই পোস্টেও স্পষ্ট করা হয়নি কার সাথে ছবি তোলার বিষয়ে এসব লিখছেন তিনি।

তবে বেঙ্গল লেন্স মানসুরার পোস্টের প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেয়া পোস্টে মানসুরা দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, “কিছু মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, এমন ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। সর্বোপরি, এখন আমার দেশের প্রতি, আমার দলের প্রতি এবং এই সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। আমরা পরস্পরের শত্রু নই, যতক্ষণ না আমাদের কর্মকাণ্ড অন্য কিছু প্রমাণ করে। দেশের স্বার্থে শান্তি বজায় রাখাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কারো সাথে ছবি তোলার মানে এই নয় যে আমি তার মতাদর্শ সমর্থন করি।”

অতীতেও তার একটি ছবি ছড়ানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি লিখেন, "সেই ছবিটার কথাই ধরুন, কয়েকজন অ্যালামনাইয়ের সাথে তোলা আমার যে ছবিটি ছড়িয়ে দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে আমি তাদেরই একজন। আমি তো তাদের লোক ছিলাম না। আমাকে নিচে নামানোর জন্য সেই ছবিটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবুও, আমি সেই ছবির দায়ভার নিয়েছি। ওটা কোনো রাজনৈতিক কারণে তোলা হয়নি, এবং সেটা আসলে এমন কিছু মানুষের মাঝে ইতিবাচক শক্তি যুগিয়েছে যারা হয়তো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রু নয়।"

মানসুরা আরও লিখেন, "আমার জবাবদিহি করার বা ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও আমি তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশা করি সবাই আমার অবস্থানটা বুঝতে পারবেন। আমি সবসময়ই উদার মন থেকেছি, এমনকি আমার চরম ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষের প্রতিও। রাজনীতিবিদ হিসেবে, বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের অবশ্যই মন খোলা রাখতে হবে।"

গতকাল বৃহস্পতিবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট দেওয়ার মুহূর্তের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মানসুরা আলম। সেই পোস্টের একটি ছবিতে তাকে জামায়াত মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা মাহমুদা মিতুর সঙ্গে দেখা যায়। (পোস্টটি দেখুন এখানে)

একইভাবে ভোট দেওয়ার মুহূর্তের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন জামায়াত মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ড. মাহমুদা মিতুও। (পোস্টটি দেখুন এখানে) তার পোস্টের দ্বিতীয় ছবিতেও ছিলেন এমপি মানসুরা আলম।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিএনপিপন্থী বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্ট ও পেজ থেকে সমালোচনা করে নানা ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া মানসুরার পোস্টের কমেন্ট বক্সে ডা. মিতুর সাথে ছবি তোলায় নানা ধরণের কটু মন্তব্য করতে দেখা যায় বিএনপি সমর্থকদের।

ফাহাদ মোহাম্মদ নামের একজন বিএনপিপন্থী একটিভিস্ট নিজের আইডিতে ছবিটি শেয়ার করে লেখেন, “বিএনপি ও জামাতের কর্মীরা লাগালাগি করে, আর নেতারা হাসিমুখে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন। বিএনপির নারী সংসদ সদস্য মনসুরা আলম নিজের আইডি থেকে এই ছবিটি পোস্ট করেছেন। জামাতি মাহমুদা মিতু বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে গা-লি দিয়েছেন, তা আমার চোখে এখনো ভাসছে। ৫ আগস্টের পর এই মিতু বিএনপিকে নিয়ে কম নোংরামি করেননি।” (দেখুন এখানে)

‘Dissforge’ নামের একটি বিএনপিপন্থী পেজ থেকে লেখা হয়, “সম্মানিত এমপি Mansura Alam, আপনি যখন এমপি হন তখন আমরা আপনাকে প্রেইজ করে গান রিলিজ দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে আপনার আপলোডকৃত ছবিটি শুধু আমাকে নয়, অনেক ছোট ছোট হাঁটুর বয়সী ছাত্রদলের ছেলেদেরকে হার্ট করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি তাহলে মিতুর মতো এমপির সঙ্গে ছবি তুলবেন না? তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠান করবেন না? হ্যাঁ, সবই করবেন। কিন্তু আপনার নিজের অবস্থান এবং ছাত্রদলের তরুণ ছেলেপেলেদের সেন্টিমেন্টও বুঝতে হবে। মিতু আপনার সঙ্গে তোলা ছবি আপলোড দিতে পারে, এইটা ওর জীবনের একটা সেরা অ্যাচিভমেন্ট। কিন্তু আপনি দিলে সেইটা মিতুর মতো একটা রংহেডেড বাটপার, গুজববাজকে স্পেস দেয়।”

ওই পোস্টের নিচে ‘Ayan Rahman’ নামের একজন মন্তব্য করেন, “ক্ষমতার মধু বড়ই মজা, এটা পাইলেই জামাতিদের সঙ্গও তখন ভালো লাগে।”

ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর মানসুরা আলম তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ব্যাখ্যামূলক পোস্টটি দেন এবং কিছুক্ষণ পর সরিয়ে নেন।

তবে আজ শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় এবিষয়ে আরেকটি পোস্ট দেন মানসুরা। তিনি লিখেন,"কালকে থেকে যারাই আমার অন্য মানুষের সাথে ছবি দেওয়া নিয়ে অসভ্যতা করাচ্ছেন ফাত্রা পোলাপান দিয়ে, এইসব থামান। আমি খুব ভালো করেই জানি কারা আমার পাশে থাকে!

মান-অভিমান করা আর কমেন্টে এসে অসভ্যতা করা, পোস্টে অসভ্যতা করার মধ্যে পার্থক্য আছে।কাদের পরামর্শে এইসব হচ্ছে তা আমার ধারনা আছে।কালকে থেকে আজ পর্যন্ত শুধু দেখলাম, গতকাল রাতে বুঝাইতেও চেষ্টা করলাম!

কিন্তু পরে দেখলাম এরা তো বুঝতে চায়না! এদের ধারনা আমি ছবির জন্য দু:খিত! মাথা কিনে নিয়েছো আমার?"

প্রসঙ্গত, এর আগে মানসুরা আলমের আরেকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে তার একটি গ্রুপ ছবি বিভিন্ন জামায়াতপন্থী আইডি ও পেজ থেকে প্রচার করতে দেখা যায়। একইসঙ্গে বিভিন্ন পোস্টে মানসুরা আলমকে গুপ্ত ট্যাগও দেয়া হয়। দেখুন এখানে