মিডিয়া লেন্স

গ্রামীণ কল্যাণে মালিকানা না থাকলেও করের দায় ড. ইউনূসের ওপর চাপাচ্ছে মিডিয়া

এই কর ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কর নয়। এটি অলাভজনক সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের আয়ের ওপর আরোপিত কর। যেখানে ড. ইউনূসের কোনো ব্যক্তিগত শেয়ার বা আর্থিক মালিকানা নেই। তাছাড়া তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

“ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট” এমন শিরোনামে গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগপর্যন্ত জাতীয়-আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রায় পঞ্চাশের অধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২৫টি সংবাদ নিচে সংযুক্ত করা হলো।

যুগান্তর, ইনকিলাব, ইত্তেফাক, কালেরকণ্ঠ, একাত্তর টিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমার দেশ, ডেইলি অবজারভার, জাগো নিউজ, বাংলাট্রিবিউন, সময়ের আলো, বার্তা-২৪, ডেইলি ক্যাম্পাস, দৈনিক বাংলা, দৈনিক শিক্ষা, ভোরের কাগজ, এটিএন নিউজ, একুশে টিভি, মানবকণ্ঠ, ঢাকা ডায়েরি, ঢাকা মেইল, বাংলা টিভি, বায়ান্ন টিভি, দৈনিক পূর্বকোণ, নিউজ নাও-২৪

এসব প্রতিবেদনের শিরোনাম প্রায় কাছাকাছি বা হুবহু মিল রয়েছে। যে শিরোনাম দেখে পাঠকের মনে স্বাভাবিকভাবে যেসব চিন্তা আসতে পারে,

১- ড. ইউনূস ৬৬৬ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছিলেন, এখন হাইকোর্টের রায়ের পর তা পরিশোধ করতে বাধ্য হবেন।

২- গত ২ জুলাই এখন টিভির টকশোতে ডা. আব্দুন নূর তুষার দাবি করেছিলেন, "নিজের জন্য উনি (ড. ইউনূস) ৬০০ কোটি টাকার কর মাফ করাচ্ছেন’। সেই দাবিটি এখন সত্য মনে হতে পারে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই কর ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কর নয়। এটি অলাভজনক সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের আয়ের ওপর আরোপিত কর। যেখানে ড. ইউনূসের কোনো ব্যক্তিগত শেয়ার বা আর্থিক মালিকানা নেই। তাছাড়া তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই সামাজিক ব্যবসায় তাঁর কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বা মালিকানা নেই—এখানে তাঁর কোনো শেয়ার নেই এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংস্থাটির পরিচালক ও চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রায় দুই বছর ধরে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মাফ করে দিয়েছেন। এমনকি তিনি তাঁর নিজের ব্যক্তিগত কর মাফ করেছেন বলেও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। তিনি কোনো করই মাফ করেননি। আজকের হাইকোর্টের রায় সেই অপপ্রচারকে চূড়ান্তভাবে মিথ্যা প্রমাণিত করেছে।

এই কর দাবির বিষয়টি মূলত হাসিনা সরকারের আমলে উঠেছিল এবং গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে মামলাটি বিচার ব্যবস্থার নিজস্ব গতিতে পরিচালিত হয় এবং হাইকোর্টের একটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও একাধিক শুনানির পর হাইকোর্ট আজ তাঁর রায় প্রদান করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।”

গ্রামীণ কল্যাণ মূলত কী?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে প্রতিষ্ঠিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণ অন্যতম। এটি অলাভজনক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর। প্রতিষ্ঠানটি মূলত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে দারিদ্র নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে।

অধ্যাপক ইউনূসের প্রায় পাঁচ দশকের সহকর্মী ও সাবেক অর্ন্তবর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘১৯৯১ সালের একটি গবেষণায় তারা দেখতে পান, বাংলাদেশে যত মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছেন, সেটার মূলে রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস তখনই এ সমস্যা সমাধানে ১৯৯৩ সালে একটি প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে আটটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করেন। সেটি সফল হওয়ার পর গ্রামীণ কল্যাণ সৃষ্টি করা হয়।

বর্তমানে সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দেড়শ'র মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। শুরুর দিকে মূলত গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের জন্য ওইসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও এখন সাধারণ মানুষও সেবা নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে গ্রামীণ কল্যাণ।

কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রথমদিকে দাতাদের অর্থে গঠিত 'সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ডে'র টাকায় গ্রামীণ কল্যাণের কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে নিজস্ব আয়েই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে, গ্রামীণ টেলিকম থেকেও প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পেয়ে থাকে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগে গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি আর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নেই বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।’’

সাংবাদিক রাজীব আহাম্মদ ১১ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টির আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন। তার লেখায় ৪টি দিক উঠে এসেছে;

১- এই মামলার পটভূমি ও ট্যাক্স বিরোধ: ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে গ্রামীণ টেলিকমে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ পাওয়া শুরু করে। ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) দাবি করে, গ্রামীণ কল্যাণ আগের ৫ বছরের প্রাপ্ত লভ্যাংশের ৬৬৬ কোটি টাকা ট্যাক্স দেয়নি। যেখানে গ্রামীণ কল্যাণের যুক্তি ছিল—গ্রামীণফোন লভ্যাংশ দেওয়ার সময় আগেই সরকারকে দেওয়া ১৫% ট্যাক্স কেটে নিয়েছে, তাই একই আয়ের ওপর পুনর্বার ট্যাক্স আরোপ করা অযৌক্তিক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ নিজেই হাইকোর্টে রিট মামলা করে। অর্থাৎ এ ঘটনায় গ্রামীণ কল্যাণ অভিযুক্ত নয়, বরং বাদি ছিল।

২- প্রথম রায় ও রায় প্রত্যাহার (Recall): ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে এনবিআরের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি বিচারক হওয়ার আগে রাষ্ট্রপক্ষে এই একই মামলায় আইনজীবী ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী বাদি বা বিবাদি পক্ষের সাবেক কোনো আইনজীবী পরবর্তীতে বিচারক হলেও সেই মামলার বিচার করতে পারেন না। এই তথ্য গোপনের বিষয়টি ধরা পড়ায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হাইকোর্ট রায়টি প্রত্যাহার (Recall) করে।

৩- ভুল প্রচার ও রাজনৈতিক বিতর্ক: রায় প্রত্যাহারের ঘটনাটিকে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে প্রচার করা হয় যে, ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসে নিজের ট্যাক্স (৬০০ কোটি টাকা) মাফ করিয়ে নিয়েছেন। অথচ বিতর্ক এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর দীর্ঘদিন মামলাটি কোনো বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোই হয়নি।

৪- সর্বশেষ রায় ও বর্তমান অবস্থা: সম্প্রতি হাইকোর্টের নতুন একটি বেঞ্চে পুনরায় শুনানি সম্পন্ন হয় এবং আদালত রিটটি পুনরায় খারিজ করে দেন। ফলে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার দাবি বহাল রয়েছে। এখন গ্রামীণ কল্যাণকে এই ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে অথবা সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে হবে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণ ও এনবিআরের এই বিরোধের সূত্রপাত হিসেবে বলা হয়েছে, “এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ তারা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাবেন। মূলত তহবিলের একটি অংশ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণ অধ্যাপক ইউনূসের হাতে গড়া আরেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায়, গ্রামীণ কল্যাণ প্রায় ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেয় গ্রামীণ টেলিকমকে।

সেই অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের তহবিলে যে অর্থ জমা হয়ে থাকে, যা আয়কর যোগ্য বলে দাবি করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

কিন্তু গ্রামীণ কল্যাণ সেটি মানতে নারাজ। "গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে- এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গ্রামীণ কল্যাণের কর নিয়ে কালেরকণ্ঠে প্রকাশিত অদিতি করিমের মতামত কলামে অসঙ্গতি

১১ সেপ্টেম্বর কালেরকণ্ঠে “কর পরিশোধ মামলার রায়, ইউনূসের সব অপকর্মের বিচারের পথ খুলে দিল?” শিরোনামে একটি মতামত লিখেছেন লেখক ও নাট্যকার অদিতি করিম। যেখানে তিনি অনেকগুলো বিষয় আলোচনা করলেও গ্রামীণ কল্যাণের এই ‘কর’ ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে।

১- লেখক এই রায়ের বহুমাত্রিক তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘‘প্রথমত এই রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একজন অন্যায়কারী সাময়িকভাবে আইন এবং বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে কিন্তু চিরদিনের জন্যে নয়- এই রায় তার সর্বশেষ উদাহরণ। ইউনূস দেড় বছর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই করের টাকা দেননি। নির্বাহী আদেশে কর মওকুফ করার চেষ্টা করেছিলেন। ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সাগরেদ আসিফ নজরুলের ইশারায় এই করের মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।”

  • অদিতি করিমের এই দাবি থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়, কর নিয়ে যে গ্রামীণ কল্যাণ ও এনবিআর- উভয় পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি রয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি জানেন না। অথবা গ্রামীণ কল্যাণের যুক্তিটি তিনি মানতে চান না।
  • ‘নির্বাহী আদেশে কর মওকুফ করার চেষ্টা করেছিলেন। ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সাগরেদ আসিফ নজরুলের ইশারায় এই করের মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।’ এই অভিযোগের পক্ষেও তিনি কোনো রেফারেন্স বা প্রমাণ দিতে পারেননি। উপরন্তু ওই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি বিচারক হওয়ার আগে রাষ্ট্রপক্ষে এই একই মামলায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনজীবী ছিলেন। এই তথ্য গোপন করায় আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই হাইকোর্ট রায়টি প্রত্যাহার করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান।

২- অদিতি করিম দাবি করেছেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ড. ইউনূস আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন সুনাগরিক নন। তিনি যদি আইনের প্রতি অনুগত একজন নাগরিক হতেন তাহলে কর ফাঁকির মামলা এতো দূর পর্যন্ত গড়াতো না। এই রায় প্রমাণ করেছে ড. ইউনূস একজন স্বার্থপর মানুষ। নিজের লাভের জন্য তিনি আইন অমান্য করেন।’

  • তার এই দাবি প্রমাণ করে মামলার ধরণ সম্পর্কে তিনি জানেন না। মামলাটিকে অপরাধমূলক "কর ফাঁকি" (Tax Evasion) হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এটি মূলত একটি দ্বৈত কর (Double Taxation) সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। গ্রামীণফোন লভ্যাংশ দেওয়ার সময় আগেই সরকার ১৫% কর কেটে নিয়েছিল, তাই একই ইনকামের ওপর আবার কর দেওয়া লাগবে কিনা—তা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ নিজেই বাদি হিসেবে মামলা করেছিল। ড. ইউনূস বা গ্রামীণ কল্যাণ এখানে আসামি নন।