Bengal Lens
টকশো লেন্স

টকশো পর্যালোচনা: ড. শিব্বির আহমদের বক্তব্যে উপস্থাপিকার ৪৫ বার হস্তক্ষেপ, রাশেদ খানকে ৪ বার

সংগৃহিত

গত ১ আগস্ট, জি-টিভিতে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক ‘টাইমলাইন বাংলাদেশ’ টকশোটি পর্যালোচনা করেছে বেঙ্গল লেন্স।

যেখানে আলোচক হিসেবে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান এবং উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমদ। উপস্থাপনায় ছিলেন, কাজী জেসিন।

বেঙ্গল লেন্স প্রায় ৫৯ মিনিটের টকশোটি পর্যালোচনা করে দেখেছে, পুরো টকশোতে ড. শিব্বির আহমদকে সময় দেওয়া হয়েছে ২৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। এছাড়া রাশেদ খানকে সময় দেওয়া হয়েছে ২৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ড। বাকি সময় উপস্থাপিকা প্রশ্ন ও পরিচিতির ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন।

এর মধ্যে প্রথম দফায় ড. শিব্বির আহমদকে সময় দেওয়া হয়েছে (২:১৬ থেকে ৯;৩০ মিনিট পর্যন্ত) ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ৮ বার বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত/সংযোজন ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রথম দফায় রাশেদ খানকে সময় দেওয়া হয়েছে (৯:৪৮ থেকে ১৯;৪০ মিনিট পর্যন্ত) ৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ৩ বার বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত/সংযোজন প্রেক্ষাপটে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় ড. শিব্বির আহমদকে সময় দেওয়া হয়েছে (২৩:৩৫ থেকে ২৯;১৫ মিনিট পর্যন্ত) ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ১৩ বার বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত/সংযোজন প্রেক্ষাপটে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় রাশেদ খানকে সময় দেওয়া হয়েছে (২৯:৩৫ থেকে ৩৮:০০ মিনিট পর্যন্ত) ৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ১ বার দ্বিমত/সংযোজন প্রেক্ষাপটে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

তৃতীয় দফায় ড. শিব্বির আহমদকে সময় দেওয়া হয়েছে (৪২:২৫ থেকে ৫২;৪৫ মিনিট পর্যন্ত) ১০ মিনিট ২০ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ২৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত/সংযোজন প্রেক্ষাপটে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

তৃতীয় দফায় রাশেদ খানকে সময় দেওয়া হয়েছে (৫৩:০০ থেকে ৫৮:২০ মিনিট পর্যন্ত) ৫ মিনিট ২০ সেকেন্ড। এ সময়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে বক্তব্যের মাঝে ১ বার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তবে সেটা কোনো দ্বিমত বা সংযোজন বিষয়ে নয়, বরং সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়েছিলো। তাই সর্বশেষ হস্তক্ষেপের বিষয়টি গণনা করা হয়নি।

অর্থাৎ, কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত টকশোটি পর্যালোচনা করে বেঙ্গল লেন্স দেখেছে, পুরো টকশোজুড়ে উপস্থাপিকার পক্ষ থেকে ড. শিব্বির আহমদের বক্তব্যের মাঝে প্রায় ৪৫ বার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। অপরদিকে রাশেদ খানের বক্তব্য চলাকালে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এসময়ে কেবল ৪ বার হস্তক্ষেপ করলেও সবগুলোই ছিল বক্তাকে সহযোগীতামূলক। যা একজন উপস্থাপকের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

দুইজন আলোচককে ভিন্ন মানদণ্ডে পরিমাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বেঙ্গল লেন্সের এই পর্যালোচনায়।

এমএ