সময় টিভির ৮ পর্বের ‘সম্পাদকীয়’ টকশো পর্যালোচনা
টকশোতে অতিথিদের প্রতি ৩ জনের ২ জনই বিএনপিপন্থী, ৪ পর্বে সঞ্চালক নিজেও

জুলাই ২০২৬ এক মাসে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টেলিভিশনের নিয়মিত টকশো ‘সম্পাদকীয়’-এর অতিথি বিন্যাসে বিএনপি ও বিএনপিপন্থী ব্যক্তিদের উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গেছে।
১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো বিশ্লেষণ করে এমন আটটি পর্ব পাওয়া গেছে, যেখানে তিনজন অতিথির মধ্যে অন্তত দুজন ছিলেন বিএনপি ও বিএনপিপন্থী ব্যক্তিত্ব। বিপরীতে তৃতীয় অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি অথবা জামায়াতপন্থী ঘরানার ব্যক্তি।
বেঙ্গল লেন্সের এই বিশ্লেষণে ‘বিএনপি’ বলতে সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ‘বিএনপিপন্থী’ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক, শিক্ষক, অ্যাক্টিভিস্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং টকশোতে বিএনপি'র পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন এবং জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির বিপক্ষে বিভিন্ন কথা বলেন।
৮ পর্বে একই ধরনের অতিথি বিন্যাস
জুলাই মাসে পাওয়া আটটি পর্বের মধ্যে প্রথমটি ছিল ২ জুলাইয়ের ‘গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ কেন’। এরপর ৮ জুলাই ‘বিপ্লবের হুমকি কেন’, ১১ জুলাই ‘হাসিনা ফেরা ও বিচার’, ২০ জুলাই ‘চেতনা ব্যবসা করছে কারা’, ২৪ জুলাই ‘বঙ্গভবনে কে উঠবেন’, ২৬ জুলাই ‘তর্জন-গর্জন’, ২৭ জুলাই ‘প্রশ্নের মুখে শাহাবুদ্দিন’ এবং ২৮ জুলাই ‘যৌথ সাজশ কি সম্ভব’—এই আটটি পর্বে একই ধরনের রাজনৈতিক অতিথি বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়।
অর্থাৎ, তিনজন অতিথির মধ্যে দুইজনকে বিএনপি বা বিএনপিপন্থী এবং একজনকে বিএনপি-বহির্ভূত অন্য রাজনৈতিক ঘরানার হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
এছাড়া এই ৮টি পর্বের মধ্যে ৪টিতে সঞ্চালক নিজেও ছিলেন বিএনপিপন্থী।
এই আটটি অনুষ্ঠানে বিএনপির সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা দলটির এমপি ছিলেন সাতজন। বিশ্লেষিত অতিথিদের মধ্যে বিএনপিপন্থী সাংবাদিক হিসেবে শাহেদ আলম, মো. মুক্তাদির রশীদ, এহসান মাহমুদ, বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে ডা. রাকিব আল হাসান, সাদিক মাহবুব ইসলাম, ড. মারুফ মল্লিক-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিএনপিপন্থী শিক্ষক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।
২ জুলাই ‘গণ-অভ্যুত্থানকে কটাক্ষ কেন’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন আফজাল হোসেন। এতে অতিথি ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপিপন্থী সাংবাদিক এহসান মাহমুদ এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু। অর্থাৎ তিন অতিথির দুজনই ছিলেন বিএনপি বা বিএনপিপন্থী ঘরানার।

৮ জুলাই ‘বিপ্লবের হুমকি কেন’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন মুজতবা খন্দকার। এতে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম এবং বিএনপিপন্থী সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশিদ। এখানেও বিএনপি ও বিএনপিপন্থী দুজনের বিপরীতে ছিলেন ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের একজন প্রতিনিধি।

১১ জুলাই ‘হাসিনা ফেরা ও বিচার’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন আহমেদ সালেহীন। অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট, ইউথ লিডার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. রাকিব আল হাসান। অর্থাৎ এই পর্বেও বিএনপি ও বিএনপিপন্থী দুই অতিথির বিপরীতে ছিলেন জামায়াতের একজন প্রতিনিধি।

২১ জুলাই ‘চেতনা ব্যবসা করছে কারা’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন মুজতবা খন্দকার। এতে অতিথি ছিলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক ড. নাসরিন ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং বিএনপিপন্থী সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশিদ। এই পর্বেও বিএনপি-ঘরানার দুজন এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দলের একজন অতিথি ছিলেন।

২৪ জুলাই ‘বঙ্গভবনে কে উঠবেন’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন আফজাল হোসেন। এতে ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এবং বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ড. মারুফ মোল্লিক। ফলে এখানেও দুইজন বিএনপি বা বিএনপিপন্থী অতিথির বিপরীতে ছিলেন জামায়াতের একজন প্রতিনিধি।

২৬ জুলাই‘তর্জন গর্জন’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন মুজতবা খন্দকার। অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন, জামায়াতপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ড. শিব্বির আহমদ এবং বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট সাদিক মাহবুব ইসলাম। এই পর্বেও বিএনপিপন্থী দুই অতিথির বিপরীতে ছিলেন জামায়াতপন্থী একজন।

২৭ জুলাই ‘প্রশ্নের মুখে শাহাবুদ্দিন’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন মুজতবা খন্দকার। এতে ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ এবং বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট, ইউথ লিডার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. রাকিব আল হাসান। এখানেও অতিথি বিন্যাস ছিল বিএনপি/বিএনপিপন্থী দুইজন বনাম জামায়াতের একজন।

সবশেষে ২৮ জুলাই ‘যোগসাজশ কি সম্ভব?’ শিরোনামের পর্বটি সঞ্চালনা করেন জাফর সাদিক। অতিথি ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, বিএনপিপন্থী সাংবাদিক সাহেদ আলম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। এই পর্বেও তিনজন অতিথির মধ্যে দুইজন ছিলেন বিএনপি বা ঘরানার।

সময় টেলিভিশনের বর্তমান হেড অব নিউজ সাংবাদিক মুজতবা খন্দকার বিএনপিপন্থী একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মুজতবা খন্দকার অব্যাহতভাবে বিএনপির পক্ষে লেখালেখি ও এক্টিভিজম করেছেন। বর্তমানেও তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে লেখালেখি করেন।
ফলে এই আটটি পর্বের অতিথি বিন্যাসকে মোটামুটি একটি কাঠামোয় ফেলা যায়: বিএনপি/বিএনপিপন্থী: ২ জন, বিএনপি-বহির্ভূত অন্য রাজনৈতিক ঘরানা: ১ জন।
অর্থাৎ, তিনজনের অতিথি প্যানেলে বিএনপি-ঘরানার প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
এছাড়া ৪টিতে উপস্থাপক নিজেও বিএনপিপন্থী হওয়ায় এগুলোতে বিএনপি ও বিএনপি ঘরানার উপস্থিতি ছিল তিন-চতুর্থাংশ।
সাম্প্রতিক সংবাদ

জামায়াত ও আ.লীগ নিয়ে তারেক রহমানের ‘কথোপকথন’: অডিওটি এআই নির্মিত

ফের ভুয়া ফটোকার্ড পোস্ট করে গুজব ছড়ালেন সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা

৯ বছরের আগের ভিডিও ছড়িয়ে 'হাসিনা মারা যায়নি' দাবি আওয়ামীপন্থীদের

ফ্যাক্ট-চেকের নামে বিভ্রান্তি, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল

