গ্লোবাল লেন্স

নেপালে বন্যায় নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৪০০ জন পর্যটক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর নদীর তীরে কাদামিশ্রিত পানিতে আংশিক ডুবে থাকা বাড়িঘর।
নেপালে আকস্মিক বন্যার পর নদীর তীরে কাদামিশ্রিত পানিতে আংশিক ডুবে থাকা বাড়িঘর। | প্রবীণ রাণাভাট/এএফপি/গেটি ইমেজেস

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা এখনো প্রাথমিক। ভ্রমণ সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, স্থানীয় প্রশাসন, গাইড ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ৪০০ জন পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই)। গোল্ফ নিউজের প্রতিবেদন

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের (এনটিবি) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও রয়েছেন।

চীন সীমান্তের কাছে রাসুয়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পর এই বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু, ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে নেপাল-চীন সীমান্তের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

নিখোঁজদের বড় একটি অংশ কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালে অবস্থান করছিলেন। তাদের রাসুওয়াগাধি সীমান্ত দিয়ে তিব্বতে প্রবেশের কথা ছিল। বন্যার সময় প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রী সীমান্ত অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা এখনো প্রাথমিক। ভ্রমণ সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, স্থানীয় প্রশাসন, গাইড ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্যায় রাসুয়া জেলায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা পানির স্রোতে ভেসে গেছে।

নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও উদ্ধারে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দূতাবাস জরুরি যোগাযোগ নম্বরও চালু করেছে।

এদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় এই দুর্যোগ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।