ভারতের জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে ঢাকাই জামদানি পরে দিবসটি উদ্যাপন করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসান। ৭ আগস্ট (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জামদানি পরা ছবি প্রকাশ করে দিবসটি পালন করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘জাতীয় তাঁত দিবসে তিনজন কারিগর চার মাস ধরে তৈরি করা ঢাকাই জামদানিটি পরেছি । এর প্রত্যেকটি সুতায় চার মাসের ধৈর্য্য, দক্ষতা এবং ঘন্টার পর ঘন্টা হাতের কাজ মিশে আছে।’
জয়া আহসান আরও লিখেছেন, ‘আমরা সাধারণত শাড়ির সৌন্দর্য দেখি, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে কারিগরদের হাত, তাঁদের জীবন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কারুশিল্পের ঐতিহ্য।
পোস্টটিতে তিনি ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে, ঢাকাই জামদানি ও ইন্ডিয়ান হ্যান্ডলুম এর মতো হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে ৭ আগস্ট জাতীয় তাঁত দিবস নামে কোন দিবস নাই।
তবে, ভারতে প্রতি বছর ৭ আগস্ট জাতীয় তাঁত দিবস পালিত হয়। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে স্বদেশি আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনাকে স্মরণ করেই দিনটি বেছে নেওয়া হয়। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারত সরকার ২০১৫ সালে ৭ আগস্টকে জাতীয় তাঁত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। একই বছর চেন্নাইয়ে প্রথম জাতীয় তাঁত দিবসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
চলতি বছরও ৭ আগস্ট তাঁত দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁতিদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের তাঁত ঐতিহ্য ও কারিগরদের দক্ষতার প্রশংসা করে স্থানীয় তাঁতপণ্যকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
ভারতের সাংস্কৃতিক বয়ানে তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ইতিহাসকে আরও প্রাচীন সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বৈদিক সাহিত্যেও বস্ত্র, সুতা ও বয়নকে ঘিরে নানা রূপক ও শব্দের উপস্থিতির কথা ভারতীয় সাংস্কৃতিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক ভারতীয় সরকারি আয়োজনেও খাদি ও বস্ত্র ‘ঢাকাই জামদানি’, যার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকার আশপাশের তাঁতশিল্প। ইউনেস্কো ২০১৩ সালে জামদানির বুনন শিল্পকে কে বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর সাথে বাংলাদেশের নিজস্ব ইহিতাস ও এতিহ্য জড়িত।
জয়া আহসান বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ায় জাতীয় তাঁত দিবস উল্লেখ করলে পাঠকদের মধ্যে জাতীয় তাঁত দিবস মানে বাংলাদেশের তাঁত দিবস মনে করতে পারে। জয়া আহসানের এই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ইতোমধ্যে বািংলাদেশি নাগরিকরা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কেউ কেউ জাতীয় তাঁত দিবস উদ্যাপন করছেন। এটি মূলত ভারতের জাতীয় তাঁত দিবস। ৭ আগস্ট ভারতে জাতীয় তাঁত দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী ‘জাতীয় তাঁত দিবস’ পালন করা হয় না। এই দিবসটি মূলত ভারতের জাতীয় তাঁত দিবস, যা ১৯০৫ সালের স্বদেশি আন্দোলনের সূচনাকে স্মরণ করে করা হয়েছে।’
এমএম/ আরএ/ইএফ