লেন্স এক্সপ্লেইনার

কে বেশি গুজব ছড়ায়—ডান নাকি বাম?

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের গতি এসেছিল একটা গুজব থেকে। রটে গিয়েছিল এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ তৈরি হয়েছে গরু আর শুকরের চর্বি দিয়ে। কার্তুজ দাঁতে ছিঁড়তে হতো বলে এই গুজব হিন্দু ও মুসলিম দুই ধর্মের সিপাহিকেই একসঙ্গে উত্তেজিত করে তোলে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন গুজবটাই প্রধান নিয়ামক ছিলো না।

মানুষের সবচেয়ে পুরোনো পতনের গল্পটাও এক অর্থে গুজবের গল্প ছিল। বহুল পরিচিত আদি আখ্যান অনুযায়ী শয়তান হাওয়াকে বুঝিয়েছিল নিষিদ্ধ ফল গন্ধম খেলে অমরত্ব মিলবে। হাওয়া সেই কথা বিশ্বাস করেন এবং আদমকেও প্রভাবিত করেন আর সেই বিশ্বাসের মূল্য হিসেবে দুজনকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে হয় দুনিয়ায়।

গল্পটা রূপক হোক বা ধর্মবিশ্বাস- এই কাঠামোটা আজও পরিচিত। একটা আকর্ষণীয় অথচ মিথ্যা দাবি, সেটাকে বিশ্বাস করা, তারপর সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

আধুনিক তর্কে ফেরা যাক। কে অপতথ্য ছড়ায়, আর কে অপতথ্য বিশ্বাস করে, এই দু’টি আসলে আলাদা প্রশ্ন। প্রথমটা আচরণের ব্যাপার, দ্বিতীয়টা মনের।

এক গবেষণায়, টুইটারে ১৫ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টের খবর শেয়ার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ডানঘেঁষা ব্যবহারকারীরাই বেশি অপতথ্য ছড়ান। তবে একই গবেষণা বলছে বামঘেঁষাদের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে। কেবল মাত্রাটা কম।

তাহলে পার্থক্যটা মানুষের ভেতরে নাকি তার চারপাশের পরিবেশে?

অপতথ্য নতুন অস্ত্র নয়

আদম-হাওয়ার গল্প বাদ দিলেও ইতিহাসে গুজবের ভূমিকা কম নাটকীয় নয়। যুদ্ধ, দাঙ্গা আর ক্ষমতার লড়াইয়ে গুজব বহু পুরোনো এক হাতিয়ার। মজার বিষয় হলো এই হাতিয়ার সবসময় এক পক্ষের হাতে থাকে না।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের গতি এসেছিল একটা গুজব থেকে। রটে গিয়েছিল এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ তৈরি হয়েছে গরু আর শুকরের চর্বি দিয়ে। কার্তুজ দাঁতে ছিঁড়তে হতো বলে এই গুজব হিন্দু ও মুসলিম দুই ধর্মের সিপাহিকেই একসঙ্গে উত্তেজিত করে তোলে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন গুজবটাই প্রধান নিয়ামক ছিলো না। জেনারেল সার্ভিস এনলিস্টমেন্ট অ্যাক্ট আর একের পর এক রাজ্য দখলে জমে থাকা যে ক্ষোভ ছিল তার ওপর গুজবটা চূড়ান্ত খড়কুটোর ভূমিকা পালন করেছিল।

ক্যারিবীয় দাসসমাজে ঊনবিংশ শতকজুড়ে বারবার রটেছিল যে ইউরোপের রাজা দাসপ্রথা বিলোপের আদেশ দিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু স্থানীয় বাগানমালিক আর ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ চেপে রাখছে। ১৭৯০ সালের টর্টোলা বিদ্রোহ থেকে শুরু করে পরের কয়েক দশকে এমন গুজবের সঙ্গে অন্তত কুড়িটি দাসবিদ্রোহ বা বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রের যোগ পাওয়া গেছে। এখানে দাবিটা টেকনিক্যালি মিথ্যা হলেও তা দাসদের কাছে স্বাধীনতা আদায়ের এক নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। গবেষকদের অনেকে তাই এটাকে নিছক গুজব না বলে নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রতিরোধের ভাষা হিসেবেই দেখেন।

দুই ক্ষেত্রেই কেবল ভুল দাবির প্রচারই সবকিছু না, বরং এই প্রচার জমে থাকা ক্ষোভকে উস্কে দিয়ে মানুষকে সংগঠিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাস ধরে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে রক্ষণশীলরা সত্য আর মিথ্যা তুলনামূলক কম আলাদা করতে পেরেছেন। ন্যাচার-এ প্রকাশিত আরেক বিশ্লেষণেও দেখানো হয়েছে ডানপন্থীরা নিম্নমানের খবর শেয়ার করেছেন বেশি। ফেসবুকের নিউজ ইকোসিস্টেম যাচাই করে দেখা গেছে ফ্যাক্টচেক হওয়া হওয়া অধিকাংশ অপতথ্য জমেছিল একটা রক্ষণশীল কোণে। বামরা এর ধারেকাছেও ছিলেন না।

এটুকু পড়ে মনে হতে পারে উত্তর বুঝি মিলে গেছে। কিন্তু Garrett ও Bond দেখিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া মিথ্যার ৪৬ শতাংশ গিয়েছে রক্ষণশীলদের অনুকূলে, উদারপন্থীদের অনুকূলে গিয়েছে ২৩ শতাংশ। উল্টোদিকে ভাইরাল সত্যের ৬৫ শতাংশ গিয়েছে উদারপন্থীদের পক্ষে আর রক্ষণশীলদের পক্ষে গিয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। এই অসাম্য থেকেই তাঁরা সিদ্ধান্তে আসেন যে তাসের গোছাটা সাজানো ছিল রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধে, কারণ বেশি মিথ্যা তাদের অনুকূলে থাকায় তারা বেশি ভুল করেছেন।

গবেষকদের এই ব্যাখ্যা যদি ঠিক হয় তবে সমস্যার উৎস মানুষের বিচারবুদ্ধি নয়, বরং তার সামনে হাজির থাকা তথ্যের ভাণ্ডার।

চালকটা পরিবেশ, নাকি মাথা?

এখানে একটা পদ্ধতিগত গ্যাপ আছে যেটা না বললে অসততা হবে। প্রচলিত অপতথ্যের বেশিরভাগই যদি ডানঘেঁষা হয় তবে যেকোনো পরিমাপে ডানপন্থীদের এমনিতেই বেশি আক্রান্ত দেখাবে। তাদের চিন্তার কারণে নয় বরং সরবরাহ চেইনের কারণে। গবেষণার ভাষায় একেই বলা হয় supply-side confound।

একটা গবেষণায় এই গ্যাপটা পরীক্ষা করে দেখানো হয়েছে, বাস্তব সংবাদ-সরবরাহ ব্যবহার করলে সেখানে এক ধরনের অসাম্য দেখা যায় বটে, কিন্তু নমুনাটা কৃত্রিমভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করে দিলে রক্ষণশীলদের সত্য চেনার ক্ষমতা উদারপন্থীদের প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। এমনকি ওই নমুনায় উদারপন্থীরাই নিজেদের মতের অনুকূল তথ্যে বেশি পক্ষপাত দেখিয়েছেন।

অর্থাৎ অসাম্যটা স্থির কিছু নয়। মানুষকে আপনি কী ধরনের উদাহরণ দেখাচ্ছেন তার ওপরই ফলাফল অনেকখানি বদলে যায়। পরিবেশ বদলালে অসাম্যও বদলায়। তাহলে দলটাই কি আসল নির্ধারক, নাকি দলের বাইরে অন্য কিছু কাজ করছে?

মন কী বলে

আধুনিক ডেটা যা-ই বলুক, ব্যক্তির মন নিয়ে গবেষণা এক জায়গায় বেশ পরিষ্কার। দুই পক্ষই নিজেদের মতের অনুকূল দাবি বেশি বিশ্বাস করে। উদার হোক বা রক্ষণশীল যে সূত্রকে মানুষ নিজের দলের বলে ধরে নেয় তাকেই সে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। এই মোটিভেটেড রিজনিং দুই দিকেই কাজ করে।

তাহলে ব্যক্তি পর্যায়ে আসল পার্থক্যটা গড়ে কীসে? অন্তত একটা গবেষণা বলছে উত্তরটা দল নয় বরং চিন্তার ধরনে। যাদের এনালাইটিকাল চিন্তার সক্ষমতা বেশি তারা নিজের মতের অনুকূল মিথ্যাকেও তুলনামূলক কম বিশ্বাস করেন, আদর্শ যেদিকেই থাকুক। আর এ থেকে গবেষকরা যুক্তি দেন যে মিথ্যায় বিশ্বাস পক্ষপাতের চেয়ে বেশি আসে চিন্তার অলসতা থেকে। যদিও এই দাবি সর্বজনস্বীকৃত নয়। পরের কিছু গবেষণায় বিশ্লেষণী চিন্তার এমন প্রভাব সবসময় ধরা পড়েনি। তবে একটা প্যাটার্ন সববময় পাওয়া যায়। সেটা হলো মিথ্যায় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত থাকে গোঁড়ামি, নিশ্চয়তার তাড়না আর কম বিশ্লেষণী চিন্তা।

একটি প্রভাবশালী গবেষণা এই মানসিক ধরনটাকেই অর্থাৎ পরিবর্তন-বিমুখতা আর অস্পষ্টতায় অস্বস্তি রাজনৈতিক রক্ষণশীলতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে। এই কাঠামোর জোরালো সমালোচনাও আছে। ওই গবেষণাটি প্রকাশের পরপরই একই জার্নালে পাল্টা লেখা ছাপা হয়, যেখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে মানসিক অনমনীয়তা কেবল ডানপন্থার বৈশিষ্ট্য নয়।

তবু ইঙ্গিতটা কাজের। রক্ষণশীলতা যদি একটা আচরণ হয় এবং নিছক লেবেল না হয়, তবে লেবেল আর আচরণ আলাদা হয়ে যেতে পারে। আর সেই ফারাকটা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্ষমতা যখন হাতবদল হয় তখন।

ক্ষমতা বদলালে অপতথ্যও দিক বদলায়

অপতথ্য কেবল আদর্শকে অনুসরণ করে না, ক্ষমতা আর ক্ষোভকেও অনুসরণ করে। দাসবিদ্রোহের গুজব যেমন ক্ষমতাহীনের অস্ত্র ছিল তেমনি ক্ষমতাসীনের হাতেও অপতথ্য ভিন্নভাবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে-পরে চালানো পাঁচটি জাতীয় প্যানেল জরিপে দেখা গেছে নির্বাচনে হারার পর মানুষ আগের চেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রবণ হয়ে ওঠে। প্রবণতাটা সবচেয়ে স্পষ্ট তাদের মধ্যে যারা রাজনৈতিকভাবে বেশি সক্রিয় এবং দলের সঙ্গে বেশি একাত্ম। পরাজিতদের হারার বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা দরকার হয়, আর সেই ব্যাখ্যা প্রায়ই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তৈরি করা হয়। ২০২০ সালের পর ট্রাম্পের চুরি হওয়া নির্বাচনের আখ্যান এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই প্রবণতা কোনো এক দলের একচেটিয়া বৈশিষ্ট্য নয়। যে পক্ষই ক্ষমতার বাইরে থাকে ক্ষোভটা তারই বেশি হয়। এই ছবিটা দল দিয়ে যতটা বোঝা যায় ক্ষমতার অবস্থান দিয়ে তার চেয়ে ভালো বোঝা যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় এই সূত্রটা কি তাহলে খাটে?

ভারতে ডানপন্থী অপতথ্যের যন্ত্রটা বেশ নথিভুক্ত ও দৃশ্যমান। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অপতথ্যের হার ৮ শতাংশ, যেখানে কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ গ্রুপে তা ৩ শতাংশ। ফ্রিডম হাউসের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে নির্বাচনের সময় অনলাইনে তথ্য কারসাজি করেছে রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষত ক্ষমতাসীন বিজেপি। একই সংস্থার আগের প্রতিবেদনে বেতনভুক্ত মন্তব্যকারী ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে সংগঠিত প্রচারযন্ত্রের কথাও এসেছে।

তবু পুরো ছবিটা কেবল দল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভারতে কোভিড-অপতথ্যে বিশ্বাসের ভালো নির্দেশক আসলে বিজেপিকে সমর্থন নয়, বরং ধর্মপরায়ণতা। দল এখানে একটা চালক, তবে একমাত্র চালক নয়।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ ছিল রীতিমতো অপতথ্যের বছর। আগের বছরের তুলনায় ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। আটটি প্ল্যাটফর্ম মিলে যাচাই করেছে ৩ হাজারের বেশি স্বতন্ত্র মিথ্যা তথ্য আর এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল রাজনৈতিক, তারপরের বড় অংশটা ধর্মীয়। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অপতথ্যে সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের, আর দেশ হিসেবে সবার ওপরে ছিল ভারত।

এখানেই ক্ষমতা সূত্রটা কাজে লাগে। ৫ আগস্টের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বিএনপির নামে ভুয়া প্রেস রিলিজ ছড়িয়ে তৃণমূলে বিভ্রান্তি তৈরি করতেন (Dismislab)। ৫ আগস্টের পর পতিত আওয়ামী লীগ এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী অ্যাকাউন্টগুলো হয়ে ওঠে অপতথ্যের বড় উৎস। রিউমর স্ক্যানার ২০২৪ সালে ভারতীয় সূত্র থেকে বাংলাদেশ নিয়ে অন্তত ১৪৮টি অপতথ্য চিহ্নিত করেছে, যার কমপক্ষে ৩৬টিতে মুসলিম ভুক্তভোগীকে হিন্দু বলে চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।

লেবেল এখানে গৌণ হয়ে পড়ে। যে ক্ষমতায় থাকে সে অপতথ্য ছড়ায় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে, আর যে ক্ষমতাচ্যুত হয় সে ছড়ায় ক্ষোভ থেকে।

লেবেল বনাম আচরণ: আওয়ামী লীগের ধাঁধা

এই জায়গায় একটা কাঠামোগত সমস্যা সামনে চলে আসে।

আওয়ামী লীগ নিজেকে সেন্টার-লেফট ও অসাম্প্রদায়িক দল বলে দাবি করে। কিন্তু বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক দলটিকে কার্যত এর বিপরীত এক ধারায় পৌঁছে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে দলটি ব্যক্তিপূজানির্ভর, উগ্রজাতীয়তাবাদী এবং আচরণে রক্ষণশীল একটি সংগঠনে রূপ নিয়েছে। কেউ কেউ আরও কড়া ভাষায় দলটিকে এক ধরনের কাল্ট বা ধর্মসম্প্রদায়ের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে নেতৃত্ব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এবং ভিন্নমতকে গণ্য করা হয় ধর্মদ্রোহের সমান।

অভিমতটা যে কাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে সেটাই এই লেখার কেন্দ্রীয় সূত্র, অর্থাৎ বাম আর ডান কেবল লেবেল নয়, একই সঙ্গে আচরণও। আগের অংশে দেখা মানসিক ধরনটার সঙ্গে, অর্থাৎ নেতৃত্ব ও পরিচয়ের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্যের সঙ্গে এই বর্ণনা মিলে যায়। ফলে ২০২৪ সালে অপতথ্যে সবচেয়ে বেশি নাম আসা দলটি নিজেকে সেন্টার লেফট বলে দাবি করলেও তার আচরণ ভিন্ন কথা বলে।

একই প্রশ্ন বাংলাদেশের গোটা বাম-পরিসর নিয়েও ওঠে। কেউ আদর্শে বাম হয়েও একই সঙ্গে সংস্কার-বিমুখ, নিজের মতে গোঁড়া এবং ভিন্নমতে অসহিষ্ণু হতে পারেন, আর এই আচরণকে কাঠামোগতভাবে রক্ষণশীলই বলতে হবে। লেবেল যা-ই বলুক।

এই লেখায় পরিমাণগত গবেষণার প্রায় পুরোটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, তাই দক্ষিণ এশিয়ায় এর সরল প্রয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এখানে ডান আর বাম শব্দের অর্থই আলাদা।

শুরুতে তোলা প্রশ্ন- অপতথ্য কে ছড়ায় আর কে বিশ্বাস করে, এই দুই প্রশ্নের উত্তরে দল একমাত্র নির্ধারক নয়। প্রাপ্ত প্রমাণ যতটুকু বলে, ছড়ানোর দিক অনেকখানি ঠিক করে দেয় ক্ষমতার অবস্থান, আর বিশ্বাসের গভীরতায় দলের চেয়ে বড় ভূমিকা রাখে চিন্তার ধরন।

সেই স্বর্গের নিষিদ্ধ ফল থেকে আজকের ভুয়া ফটোকার্ড পর্যন্ত মানুষ বারবার একই ফাঁদে পা দিয়েছে। বদলেছে শুধু কে ফাঁদ পাতছে আর কার বিরুদ্ধে। ডান বনাম বাম এই বিভাজন তাই প্রশ্নটার একটা অংশমাত্র, পুরোটা নয়।