ঢাকার চার শতাব্দীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে আয়োজিত বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’য় প্রদর্শিত পর্দাঘেরা রিকশাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে তুলে ধরেছেন এটিএন বাংলার চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর ও সিনিয়র সাংবাদিক জ. ই. মামুন।
‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক, কোর্ট চত্বরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
ঢাকার অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান নগরজীবনের সংযোগ তুলে ধরতে শোভাযাত্রায় স্থান পায় ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনের নানা অনুষঙ্গ। এর মধ্যে ছিল লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাইয়া ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিকৃতি। পাশাপাশি ছিল পালকি, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনাও। তেমনই একটি উপস্থাপনা ছিলো পর্দাঘেরা রিকশা। এটি ছিল ঢাকার পুরোনো নগরজীবনে নারীদের চলাচলের একটি ঐতিহাসিক চিত্রের প্রতীকী উপস্থাপন।
তবে এই পর্দাঘেরা রিকশার প্রদর্শনীকে বর্তমান ঢাকার রাস্তায় নারীদের জন্য আলাদা রিকশা চলাচলের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন জ.ই. মামুন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দেশ আফগানিস্তান হতে কত দেরি, পাঞ্জেরী? একই রাস্তায় একই সময়ে একসাথে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডের এত “মহিলা রিকশা” নামানোর উদ্দেশ্য তো সুবিধার মনে হচ্ছে না। আর কেবলমাত্র নারী যাত্রীবাহী এসব হিজাবী রিকশার জন্য পুরুষ চালকের বদলে গোলাপী বাসের মতো নারী রিকশা চালক দিলে ভালো হতো না!’
জ.ই. মামুনের পোস্টে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে, যেন ঢাকার বর্তমান সড়কে নারীদের জন্য পৃথক বা পর্দা ঘেরা রিকশা চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গতকালের শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত পর্দা ঘেরা রিকশাটি ছিল ঢাকার পুরোনো ঐতিহ্য ও নগরজীবনের একটি চিত্রের প্রতীকী উপস্থাপন। এটি কোনো নতুন পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা ঢাকার রাস্তায় বর্তমানে চালু হওয়া ‘মহিলা রিকশা’ নয়।