Bengal Lens
নিউজ লেন্স

সেনাপ্রধানের তুরস্ক সফর নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার বিভ্রান্তিকর সংবাদ

‘তুরস্ক গেলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, কতটা চিন্তায় নয়াদিল্লি? ঢাকায় "তুর্কিনাচন" কি ইসলামাবাদের "পাকা মাথা"র ফসল? প্রথমবার শুনলে মনে হতে পারে এটি কোনো ভুঁইফোঁড় ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্ট শিরোনাম। কিন্তু আসলে এটি কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার একটি বিশেষ ফটো স্টোরির শিরোনাম। শিরোনাম দেখে মনে পাঠকের মনে হতে পারে বিশেষ কোনো অনুসন্ধানের সূত্রে খুব চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরো সংবাদটিতে কেন নির্ভরযোগ্য সূত্র বা বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনটি করা হয়েছে পুরোনো কয়েকটি সফরের কিছু তথ্য উল্লেখ করে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সফরকে বা বাংলাদেশের-তুরস্ক কূটনৈতিক সম্পর্ককে পাকিস্তানের চিন্তা বলে চিত্রায়িত করতে পারে বা সমর্থন করতে পারে এমন বিষয় বলতে রয়েছে, বাংলাদেশর সেনাপ্রধানের সফরকালীন সময়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরও তুরস্ক সফর করা।

প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাবাহিনী ও সামরিক দপ্তর সম্পর্কিত হলেও কারোরই বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

৮ বার ‘বিশেষজ্ঞ’ শব্দটি ব্যবহার করলেও কোনো বিশেষজ্ঞের নাম উল্লেখ করা হয়নি। কাঠামো ঠিক রাখতে কখনো- ‘বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এও মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে, ফলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে” এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি দাঁড়িয়ে আছে কেবল অনুমান, ভূরাজনৈতিক আশঙ্কা এবং প্রশ্নবোধক বাক্য কাঠামোর ওপর। স্বাধীন সূত্র, স্পষ্ট বিশেষজ্ঞ মত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না নিয়ে সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শিরোনামে শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেওয়া বিভ্রান্তিকর।

এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে প্রকাশিত "আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল আইএসপিআর।

এমএম/ আরএ