Bengal Lens
নিউজ লেন্স

জুলাই শহীদকে ‘নিহত’ ও পুলিশকে ‘হত্যার শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিবিসি বাংলা

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে একইসাথে মারা যায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা। তবে পুলিশকে তুলে ধরা হলো ‘হত্যার শিকার’ হিসেবে আর পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো আন্দোলনকারীদের বেলায় বলা হয়েছে ‘নিহত’।

গত ১ আগস্ট বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ‘চব্বিশের ৪ঠা অগাস্ট এক থানায় ১৫ জন পুলিশ হত্যার পর কী হয়েছে?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটি দেখা গেছে। এছাড়াও ভাষা নির্বাচন, তথ্যের ভারসাম্য এবং উৎস ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনায় বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি। প্রতিবেদনে এনায়েতপুর থানায় নিহত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ‘হত্যা’, ‘হত্যার শিকার’ এবং ‘পিটিয়ে হত্যা’-র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘নিহত’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। একই ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় দুই পক্ষের জন্য ভিন্ন শব্দচয়ন ব্যবহারের ফলে প্রতিবেদনের ভাষাগত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

সাধারণত সকল ধরণের মৃত্যুতে নিহত বলা গেলেও হত্যা তখনই বলা হয় যখন কেউ অপরের কারণে/ আঘাতে/ দ্বারা নিহত হন। এনায়েতপুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দু’পক্ষেই হতাহত হয়েছিল।

এছাড়াও প্রতিবেদনটিতে পুলিশ সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য স্থান পেলেও আন্দোলনকারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক কিংবা স্থানীয় কোনো নেতৃত্বের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে ঘটনার একটি অন্তঃসত্তা হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও সেই গুজবের উৎস, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। গুজবটি একাধিবার ব্যাপকহারে ছড়ান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হলো, নিহত ১৫ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কোন পদমর্যাদার কতজন ছিলেন, তাদের নাম-পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

৪ আগস্টের জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেসময়ের চলমান আন্দোলনের ‍বিস্তৃত প্রেক্ষাপট এবং ওই দিনের সংঘাতের সামগ্রিক চিত্র প্রতিবেদনে অনুপস্থিত ছিল। শুধু থানায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বর্ণনা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কয়েকটি গণমাধ্যমে আগে পুলিশের হামলার কথা বলা হয়েছে।

এরকম একটি সংবেদনশীল প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও অনুপস্থিত, যা রাষ্ট্রীয় অবস্থান জানার সুযোগ সীমিত করেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটা এডিটরিয়াল পলিসি অনুযায়ী হয়েছে ‘। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিয়ম-নীতির কারণ দেখিয়ে মুঠোফোনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হন নি।

এমএম/ আরএ