স্বাধীনতার স্থপতি থেকে স্বৈরশাসক, যেভাবে আফ্রিকার ইরিত্রিয়ায় একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন আফওয়ার্কি

গত ৩১ বছর ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনা করা আফওয়ার্কি এখন আর কেবল একজন প্রেসিডেন্ট নন, বরং হিটলার, মুসলনী কিংবা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো এক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন।
আসমারার ধূলিমলিন রাজপথ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এক পাহাড়ের চূড়ায় আদি হ্যালো বাঁধ। এই বাঁধের পাশেই ইরিত্রিয়ার দীর্ঘকালীন প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ার্কির বাসভবন। বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী এই শাসক তার অধিকাংশ সময় কাটান এখানেই। বাইরে থেকে দেশটিকে শান্ত এবং স্থিতিশীল মনে হলেও, মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এটি আজ ‘আফ্রিকার উত্তর কোরিয়া’ হিসেবে পরিচিত। গত ৩১ বছর ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনা করা আফওয়ার্কি এখন আর কেবল একজন প্রেসিডেন্ট নন, বরং হিটলার, মুসলনী কিংবা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো এক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন।
অথচ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিশ্বনেতারা তাকে আফ্রিকার এক ‘রেনেসাঁ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। একজন ক্যারিশম্যাটিক গেরিলা যোদ্ধা থেকে কীভাবে তিনি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিভৃতচারী ও কঠোর একনায়কে পরিণত হলেন, সেই রূপান্তরের গল্পটি ইরিত্রিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিবর্তনের সাথে মিশে আছে।

ইসাইয়াস আফওয়ার্কি ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন আসমারায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চরম একগুঁয়ে এবং নেতৃত্বের প্রতি আসক্ত। পাড়ার ফুটবল দলের অধিনায়কত্ব করা থেকে শুরু করে বাড়ির সেরা আসনটি দখল করা, সবকিছুতেই তার একক আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। এমনকি খারাপ গ্রেড দেওয়ায় হাইস্কুলের একজন মার্কিন শিক্ষককে তিনি চড় মারেন বলেও প্রচলিত আছে।
১৯৬৬ সালে আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তিনি সুদানে গিয়ে ইরিত্রিয়ান লিবারেশন ফ্রন্টে (ELF) যোগ দেন। এই গেরিলা বাহিনী তখন ইথিওপিয়ার শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছিল। ১৯৬৭ সালে প্রশিক্ষণের জন্য তাকে চীনে পাঠানো হয়। মাও সেতুং-এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সেই উত্তাল সময়ে তিনি গেরিলা যুদ্ধ এবং আদর্শিক প্রচারণার কৌশল রপ্ত করেন। মার্কিন কূটনৈতিক নথিপত্র অনুযায়ী, চীনে অবস্থানকালে তিনি মাও সেতুং-এর ‘ব্যক্তিপূজা’ পছন্দ না করলেও, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কীভাবে সমূলে নির্মূল করতে হয়, সেই শিক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন।
গেরিলা জীবন ও নেতৃত্বের নিরঙ্কুশ দখল
ইরিত্রিয়ায় ফিরে আফওয়ার্কি দ্রুত অনুধাবন করেন যে, ইএলএফ-এর ভেতরে থেকে তিনি তার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন না। ফলে ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তিনি সংগঠনটি ভেঙে নিজের অনুসারীদের নিয়ে ইরিত্রিয়ান পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (EPLF) গঠন করেন। এই নতুন সংগঠনের মাধ্যমেই তিনি তার কঠোর নেতৃত্বের শৈলী প্রদর্শন করতে শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে যখন তার সহকর্মীরা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি তোলেন, তখন তিনি তাদের ‘মেনকা’ বা বাদুড় আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে দমন করেন। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য তিনি ‘হালেওয়া সোরা’ বা ‘বিপ্লবের রক্ষক’ নামক এক ভয়াবহ নিরাপত্তা সংস্থা গড়ে তোলেন।
পরবর্তী দুই দশক ধরে ইপিলএফ যোদ্ধারা ইথিওপীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়। আসমারার উত্তর-পশ্চিমে নাগকা নামক দুর্গম পাহাড়ের নিচে তৈরি সুড়ঙ্গে বাস করে তারা যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। আফওয়ার্কি সেই প্রতিকূল পরিবেশে যোদ্ধাদের সাথে নিজে রান্না করা থেকে শুরু করে পাহাড় বাওয়া, সব কাজেই পটু ছিলেন। তবে এই সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে ছিল তার কঠোর শৃঙ্খলা এবং দ্বিমত পোষণকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি।
১৯৯১ সালে যখন ইপিলএফ যোদ্ধারা আসমারায় প্রবেশ করে ইথিওপীয় শাসনের অবসান ঘটায়, তখন ইরিত্রিয়াবাসীর কাছে তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ত্রাতা ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহানায়ক। চারদিকে তখন তার নামের জয়ধ্বনি। ইরিত্রিয়বাসীর কাছে তিনিই সব।

গণতন্ত্রের সম্ভাবনা ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
১৯৯৩ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে ইরিত্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ইসাইয়াস আফওয়ার্কি দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। সেই বছরই কায়রোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকার নেতাদের সম্মেলনে তিনি প্রবীণ নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, ‘যারা দশকের পর দশক ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান তারা মহাদেশটির উন্নয়নের প্রধান বাধা।’ তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, ইরিত্রিয়া কখনোই সেই ভুল পথে হাঁটবে না এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইরিত্রিয়ার গণতন্ত্রের পথটি আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছিল। উদীয়মান সংবাদপত্রগুলোতে ক্ষমতাসীন দল 'পিপলস ফ্রন্ট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জাস্টিস' (পিএফডিজে)-এর ভেতরের সমালোচনামূলক কণ্ঠসহ নানা মতামত প্রকাশিত হচ্ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় পরিষদ সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছিল এবং রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিতর্ক চলছিল। দেশটি ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছিল। ১৯৯৫ সালে ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আফওয়ার্কির প্রশংসা করেছিলেন।
১৯৯৭ সালে একটি নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি করা হয়, যাতে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এই সংবিধান কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৮ সালে প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সাথে এক সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরু হলে আফওয়ার্কি তার আসল রূপ ধারণ করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয় এবং ইরিত্রিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়ে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এবং পরাজয়ের গ্লানি আফওয়ার্কির শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি করে। অনেক মন্ত্রী ও বুদ্ধিজীবী অভিযোগ করেন যে, আফওয়ার্কির একগুঁয়েমি এবং জেনারেলদের পরামর্শ উপেক্ষা করার কারণেই দেশ এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
২০০১ সালের মার্চ মাসে সরকারের ১৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (জি-১৫ নামে পরিচিত) একটি খোলা চিঠিতে প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দেন এবং ১৯৯৭ সালের সংবিধান বাস্তবায়নের দাবি তোলেন। কিন্তু আফওয়ার্কি এই সমালোচনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন সারাবিশ্বের নজর আমেরিকার ৯/১১ হামলার দিকে ছিল, সেই সুযোগে তিনি জি-১৫ এর ১১ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বিচার করা হয়নি এবং আজ পর্যন্ত তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সেই একইদিন সকালে দেশের সমস্ত স্বাধীন সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বহু সাংবাদিককে বন্দি করা হয়। এই ঘটনাটিই ইরিত্রিয়ার গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।

এক রুদ্ধদ্বার কারাগারের অর্থনীতি ও সমাজ
২০০১ সালের সেই ক্র্যাকডাউনের পর থেকে ইরিত্রিয়া এক রুদ্ধদ্বার রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আফওয়ার্কি ১৯৯৭ সালের সংবিধানকে মৃত ঘোষণা করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কয়েক দশকের মধ্যেও ইরিত্রিয়ায় কোনো নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন ‘অনির্দিষ্টকালীন জাতীয় সেবা’ (Indefinite National Service)। ২০০৩ সাল থেকে প্রবর্তিত এই নিয়মে মাধ্যমিক স্কুল শেষ করার পরপরই তরুণ-তরুণীদের সাওয়া নামক এক মরুভূমি ক্যাম্পে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যেতে হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জাতীয় সেবার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তরুণদের নামমাত্র মজুরিতে খনি খনন, রাস্তা নির্মাণ বা কৃষি কাজে বাধ্য করা হয়, যাকে জাতিসংঘ ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই দীর্ঘকালীন বন্দিত্ব এবং সুযোগের অভাব থেকে বাঁচতে প্রতি মাসে হাজার হাজার তরুণ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইথনোলজি ইনস্টিটিউটের হর্ন অব আফ্রিকা বিষয়ক অভিবাসন গবেষক ম্যাগনাস ট্রাইবারের মতে, এ পর্যন্ত ইরিত্রিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা প্রায় ৭ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
আফওয়ার্কির শাসনে ধর্মীয় স্বাধীনতাও চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। সরকার অনুমোদিত চারটি ধর্ম ছাড়া অন্য যেকোনো ধর্ম চর্চাকারী বা প্রচারকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি দেশের একমাত্র মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর ফুতসুম ঘেবরেঙ্গেসকেও তার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ২০০৪ সাল থেকে নিখোঁজ করে রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালে সরকারের সমালোচনার দায়ে ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত ২২টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুসলমানদের অবস্থাও ইরিত্রিয়াতে খুবই করুণ।
কুয়েত থেকে প্রকাশিত আরবি ম্যাগাজিন ‘আল মুজতামা’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সরকারের নানাবিধ অত্যাচারে ইরিত্রিয়ার মুসলমানরা বর্তমানে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের সময় মুসলিমরা যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো সব বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ইসলামি প্রতিষ্ঠান। মসজিদগুলোও নিয়মিত প্রতিরক্ষা বাহিনীর নজরদারিতে থাকে।
১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামি অঙ্গনের প্রসিদ্ধ সব শিক্ষক, ইমাম ও বুদ্ধিজীবীদের বন্দি করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীতে নিষিদ্ধ করেছে আজান ও নামাজ। ১৯৯৩ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে পূর্ব সুদানের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া প্রায় এক মিলিয়ন মুসলিম শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অস্বীকার করেছে প্রেসিডেন্ট আফওয়ার্কি।
বিচ্ছিন্ন কূটনীতি
সাবেক সহকর্মীদের মতে, আফওয়ার্কি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত খিটখিটে এবং রাগী প্রকৃতির। ২০০৮ সালে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে এক নৈশভোজে টমেটোর আকার নিয়ে তর্ক হওয়ার পর তিনি রাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার কোনো স্তরেই তিনি চ্যালেঞ্জ পছন্দ করেন না। বর্তমানে ইরিত্রিয়ার মন্ত্রিসভার কোনো বৈঠক হয় না এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় কোনো মন্ত্রী ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তিনি একাকীত্ব বা ‘আইসোলেশন’-এর নীতি বেছে নিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে মার্কিন আধিপত্যের হাতিয়ার বলে মনে করেন। তবে লোহিত সাগরের কৌশলগত আসাব ও মাসাওয়া বন্দর তার নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্বশক্তিগুলো তার সাথে সম্পর্ক রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে সরে গিয়ে রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্ক গভীর করেছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইরিত্রিয়া ছিল অন্যতম। ২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার সাথে এক শান্তি চুক্তি করে তিনি সবাইকে অবাক করলেও, পরে টাইগ্রে অঞ্চলের যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তিনি আবারও তার রণংদেহী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
একাকী শাসক ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ
ইসাইয়াস আফওয়ার্কি এখন তার আদি হ্যালো বাসভবনে বসে ইরিত্রিয়ার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি নিজেকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে একজন ‘পবিত্র দায়িত্ব পালনকারী’ মনে করেন। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি ইরিত্রিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করছেন এবং আত্মনির্ভরশীলতার দোহাই দিয়ে তিনি সব ধরনের আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু তার এই ‘স্বনির্ভরতা’ সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ, পানি কিংবা জীবনরক্ষাকারী ওষুধের চরম সংকট বিরাজ করছে।

৮০ বছর বয়সের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও তিনি কোনো উত্তরসূরি নির্ধারণ করেননি। তার প্রশাসনের ভেতরে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নেই। দেশটিতে কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি না থাকায় আফওয়ার্কির বিদায়ের পর এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ধস নামার ঝুঁকি রয়েছে।
যে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা একদিন আফ্রিকার নতুন আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনি আজ তার নিজের দেশকেই এক বিশাল কারাগারে রূপান্তর করেছেন। স্বাধীনতার তিন দশক পর ইরিত্রিয়া আজ আর কোনো গণতন্ত্রের আলো নয়, বরং এক ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ছায়ায় ঢাকা। ইসাইয়াস আফওয়ার্কির এই যাত্রাটিই প্রমাণ করে যে, কীভাবে স্বাধীনতার নায়ক ধীরে ধীরে সেই শিকল তৈরির কারিগরে পরিণত হতে পারেন, যা তার নিজের জাতিকেই আজ শৃঙ্খলিত করে রেখেছে।
সাম্প্রতিক সংবাদ

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৭ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
গুলি, হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ

জুলাইয়ে হামলাকারী বহিষ্কৃত জাবি ছাত্রলীগকর্মী প্রজ্ঞাদ্বীপ এখন ‘আগামীর সময়’র সাংবাদিক

১৫০ গ্যাসকূপ: পরিকল্পনা কেবল কাগজেই, বাস্তবে কমছে উৎপাদন

হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে; ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তেহরান

