Bengal Lens
মিডিয়া লেন্স

জবিতে ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উদযাপনের সুর

হামলার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উদযাপনের সুর
হামলার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উদযাপনের সুর

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল কর্তৃক ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনাকে কিভাবে উপস্থাপন করছে গণমাধ্যম তা যাচাই করেছে বেঙ্গল লেন্স।

বেঙ্গল লেন্স-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, একটি রাজনৈতিক সংঘাতকে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের ‘বিজয়গাঁথা’ বা ‘উদযাপনের’ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে।

যেমন ইত্তেফাক তাদের প্রতিবদনে লিখেছে, ‘জকসু ভিপিকে মেরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিল ছাত্রদল’।

কালবেলা তাদের প্রতিবেদনের ক্যাপশনে লিখেছে, ‘‘উস্কানির’ পর ছাত্রদলের দ্বিমুখী আক্রমণে জগন্নাথে নাজেহাল শিবির’’।

ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, ‘‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবির সদস্যদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন’’।

যমুনা টিভি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকে বের করে দিল ছাত্রদল; উত্তপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস লিখেছে, ‘‘জকসু ভিপি ও জিএসকে মেরে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রদল’’।

গ্লোবাল টিভি লিখেছে, ‘‘জকসু ভিপি ও সাবেক শিবির সভাপতিকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিল ছাত্রদল’’

বার্তা বাজার লিখেছে, ‘‘জকসু ভিপিকে মেরে ক্যাম্পাস ছাড়া করল ছাত্রদল’’।

এসব নিউজের ভেতরে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বর্ণনা থাকলেও শিরোনামের ভাষাটি অনেকাংশেই উদযাপনের ইঙ্গিত বহন করে।

উপরোক্ত শিরোনামগুলোতে শব্দ বাছাইয়ের গভীরে কিছু সুস্পষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাত লুকিয়ে আছে।

"মেরে বের করে দিল", "ক্যাম্পাসছাড়া করল", "নাজেহাল"—এ ধরনের নাটকীয় শব্দ ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত হামলাকারীদের জন্য একটি ‘মানসিক বিজয়’ বা উদযাপনের ক্ষেত্র তৈরি করে।

পাশাপাশি আক্রমণকারীকে 'হিরো' বা ক্যাম্পাসের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শক্তিশালী পক্ষের মন জুগিয়ে চলা এবং তাদের পেশিশক্তিকে মহিমান্বিত করে প্রচার করার একটি উদাহরণ এসব শিরোনাম।

পেশাদার সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনার শিরোনাম হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নির্মোহ।

যেমন দ্য ডেইলি স্টার শিরোনাম করেছে, "জবিতে ছাত্রদল-শিবির-ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ, আহত ৭০", এখন টিভি (Ekhon TV) ও করতোয়া শিরোনাম করেছে, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ", বাংলাদেশ প্রতিদিন শিরোনাম করেছে "জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস"

কিন্তু নাটকীয় শিরোনাম দেওয়া সংবাদমাধ্যমগুলো রেফারির মত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকা পালন করেছে। যেখানে এক পক্ষকে ‘পরাক্রমশালী বিজয়ী’ এবং অন্য পক্ষকে ‘পরাজিত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি সরাসরি সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন।

গণমাধ্যমের উচিত নয় কোনো সংঘাত কিংবা কোনো পক্ষের আক্রমণকেই মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা। সুস্থ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে ‘বেঙ্গল লেন্স’ এই ধরনের কাঠামোগত পক্ষপাতের দিকে নজরদারি অব্যাহত রাখবে।