ফ্যাক্ট চেক

জয়শঙ্করের নামে তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে অসত্য বক্তব্য

কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ফটোকার্ডে উল্লিখিত দাবির ব্যাপারে কোনো ধরণের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে একাধিক পেজ ও আইডি থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মন্তব্যযুক্ত ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার আগে বহুবার কল দিয়ে ভারতের অনুমতি চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন এস জয়শঙ্কর। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এক, দুই, তিন, চার

গত ২৫ আগস্ট 'বঙ্গকথা bongokothaa' নামের একটি আইডি থেকে এমন একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে উল্লেখ্য করা হয়, "আপনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার আগে, বহুবার কল দিয়ে ভারতের অনুমতি চেয়েছিলেন। আমাকে গোপনীয়তা ভাঙতে বাধ্য করবেন না! এস জয় শংকর"।

ফ্যাক্ট চেক:

বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি বিভ্রান্তিকর। কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নামে আলোচ্য মন্তব্য দিয়ে ফটোকার্ডটি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ফটোকার্ডে উল্লিখিত দাবির ব্যাপারে কোনো ধরণের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, কি ওয়ার্ড সার্চ করে বাংলাদেশ নিয়ে এস জয়শঙ্করের বিভিন্ন মন্তব্য পাওয়া যায়। গত ২৩ আগস্ট ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে দুই দেশই একটি সমঝোতামূলক অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে জয়শঙ্করের মন্তব্যযুক্ত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

একই দিনে ‘ফাস্টপোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শনিবার জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক তখনই এগিয়ে যেতে পারে যদি তা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে; এমন এক সময়ে তিনি এ কথা বললেন যখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইছে ঢাকা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নতুন দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলছে।

এসব প্রতিবেদনগুলোতে আলোচ্য ফটোকার্ডের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে, কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এস জয়শঙ্করের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, টুইটার একাউন্ট ঘেঁটেও আলোচ্য দাবির পক্ষে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এস জয়শঙ্কর কোনো প্রতিক্রিয়া বা সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো মন্তব্য করলে স্বাভাবিকভাবেই তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যেহেতু কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাঁর আলোচ্য মন্তব্য করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই জয়শঙ্করের নামের এমন মন্তব্য প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

সুতরাং তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে এস জয়শঙ্করের নামে ভিত্তিহীন মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।