সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একজন নারীকে মারধরের ভিডিও শেয়ার দিয়ে অনেকেই লিখছেন 'একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করা হচ্ছে'। দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
তবে বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে, তিনি কোনো নারী ম্যাজিস্ট্রেট নন। বরং স্থানীয় মার্কেটের একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। বাজার কমিটির সাথে দ্বন্দ্বের জেরে মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি রাজবাড়ী সদর উপজেলার কাপড়ের মার্কেটে। মারধরের শিকার সেই নারীর নাম জাকিয়া সুলতানা। রাজবাড়ী সদর বাজারে 'আস্থা পোশাক শিল্প' নামে কাপড়ের দোকান ছাড়াও একাধিক উদ্যোগ রয়েছে তার।
উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বেঙ্গল লেন্সকে জানান, নিজের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে প্রতারণার অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তাকে ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
একাত্তর টিভির রাজবাড়ী প্রতিনিধি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ প্রতিষ্ঠানে শাহানা পারভীন বৃষ্টি নামে এক নারী সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। কর্মরত অবস্থায় জাকিয়া সুলতানার সঙ্গে বৃষ্টির বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। পরে একই কাপড় বাজারে নিজেই একটি দোকান দেন বৃষ্টি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী কাপড় বাজার এলাকায় কয়েকশ লোক তার দোকানে এসে তাকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর থানায় নিয়ে যায়।
জাকিয়া সুলতানা আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার সময় রাস্তায় কয়েকজন যুবক তাকে লাথি মারেন। এর আগে গত ২৩ আগস্ট ওই কর্মচারীসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি ও গালাগালি করেন বলে দাবি করেন তিনি।
পুরো ঘটনাকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে জাকিয়া বলেন, 'এসব আমার বিরুদ্ধে বাজার কমিটির ষড়যন্ত্র। তারা অনেক অভিযোগ করেছে কিন্তু কোনো প্রমাণ নাই। আর আমাকে যা করেছে তা ভিডিওতে পরিষ্কার। আমি সংবাদ সম্মেলন ডেকে পুরো ঘটনা পরিষ্কার করবো।' পরে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
এদিকে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের দাবি, ওই নারী তার দোকানে কর্মচারীদের বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করে আসছিলেন। এমনকি শনিবার দুপুরে মাইক নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মিথ্যাচার করছিলেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির একাধিক জনকে ফোন করলেও কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন রয়েছে বলে ফোন কেটে দেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, জাকিয়া সুলতানার দোকানের এক কর্মচারী তার দোকান ছেড়ে অন্য দোকানে যাওয়ায় বাজার কমিটির কাছে বিচার দেন তিনি। পরে এ বিষয় নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।