“জামায়াতে ইসলামী ৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী—এটা সম্পূর্ণ ভারতের নাটক” রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দেখুন এখানে এখানে এখানে এখানে
পরবর্তীতে ওই ফটোকার্ডকে সত্য ধরে নিয়ে কবি ও লেখক শ্বাশত টিটো তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং দিলারা চৌধুরীর কথিত বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সমালোচনাকালে তিনি বলেন, "দিলারা চৌধুরী আপনি তো একাত্তরে পূর্ণ যুবতী না হলেও সাবালিকা ছিলেন, আপনি কি জামায়াতের কোনো নেতার সাথে খাট কাঁপানো অবস্থায় ছিলেন, নাকি পাকিস্তানের কোনো মেজরের সাথে বা সাধারণ সিপাহীর সাথে খাট কাঁপানো সম্পর্কে আপনি লিপ্ত ছিলেন, একবার আমাদেরকে বলবেন কি? নতুন ইতিহাস তৈরিতে আপনি নিজেকে সমর্পিত করলেন কেন?"
বেঙ্গল লেন্সের যাচাইয়ে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি ভুয়া। ফটোকার্ডটির মূল বক্তব্য ধরে বিভিন্ন কিওয়ার্ডে অনুসন্ধান করে কোনো বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম, ভিডিও সাক্ষাৎকার, অনুষ্ঠান বা দিলারা চৌধুরীর বক্তব্যের মূল রেকর্ডে উক্তিটির নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি।
দিলারা চৌধুরী নিজেও বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন “এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি”।
অর্থাৎ দিলারা চৌধুরীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
সাংবাদিক রাজিব আহাম্মদ তার ফেসবুক আইডিতে কবি শ্বাশত টিটোর ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘সরি টু সে, হাসিনার সবচেয়ে শিক্ষিত সমর্থকও সাইকো। জাস্ট অমানুষ। নইলে শ্বাশত টিটুর মত লেখক এবং কবি কীভাবে দিলারা চৌধুরীর মত ৮০ বছর নারী সম্পর্কে এমন কুকথা বলতে পারে! জাস্ট হতভম্ব হয়ে গেছি।
প্রথম কথা , দিলারা চৌধুরী এমন কোনো কথাই বলেননি। এটা ছিল ফেইক ফটোকার্ড। কিন্তু শ্বাশতের মত সাহিত্যিক এই গুজবটা ছড়িয়ে একজন বয়োবৃদ্ধ নারী সম্পর্কে এমন কুকথা বলল! আর যদি এ কথা দিলারা চৌধুরী বলেও থাকতেন, তাহলেও তো এই জাতীয় নোংরা কথা বলা যায় না।
আফসোস, শ্বাশতের মত কিটগুলো সমাজে প্রগতিশীল, লিবারেল বলে গন্য হয়। নোংরাগুলো করবে বিজেপি, আরএসস কিন্তু তাদেরকে মুক্তচিন্তার ধারক বাহক বলতে হবে।’’