Bengal Lens
লেন্স ওয়াচ

ভুয়া খবরের ভিত্তিতে কলাম লিখলেন একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক স্বদেশ রায়

গত ২৪ জুলাই সারক্ষণডটকম নামক একটি পোর্টালে ‘মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা ও ইউনূসের দৈত্যরা’ শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন পদক প্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক স্বদেশ রায় । তবে যে ভিডিওটির তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ কলাম লিখেছেন সেটির তথ্য অসত্য বলে শনাক্ত করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা স্ট্রিম সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

কলামের শুরুতে স্বদেশ রায় লিখেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার একটা ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। ভদ্রলোক দেশের একজন সিনিয়র সিটিজেন। সত্তরোর্ধ্ব বা সত্তরের কাছাকাছি তাঁর বয়স হবেই।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘রাস্তার মাঝখানে এ ধরনের ভদ্রলোকদের এভাবে লাঞ্ছিত হবার ভিডিও গত দুই বছরে দেখতে দেখতে এদেশের মানুষ অনেকখানি অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কারণ, বিএনপির এই মতিঝিল সভাপতির বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে দেশের মানুষ এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখেছে, ঢাকার জিরো পয়েন্টেও এভাবেই এই বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত হতে দেখেছে। তাদের সমস্ত শরীরের কাপড় এভাবেই খুলে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক তরুণীকেও একই হাল করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরও করা হয়েছে। আইনজীবী, বিচারক, রাজনীতিক সবার ওপর করা হয়েছে।’

স্বদেশ রায় যে ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে এ কলাম লিখেছেন বাংলা স্ট্র্রিম সহ একাধিক গণমাধ্যম যাচাই করে দেখেছে ভিডিওতে ঘটনাটি সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে যে দাবি ছড়ানো হয়েছিল, সেটি বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই।

বাংলা স্ট্রিমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়, মারধরের শিকার ব্যক্তি মতিঝিল থানা বিএনপির সভাপতি শিবলুর রহমান শিবু এবং এক নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ‘তৌহিদী জনতার’ হামলার শিকার হন। তবে দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। ভিডিওটি ২৩ জুলাই পুরানা পল্টনের ট্রপিকানা টাওয়ারের সামনে ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আটক কেরামত আলীকে মারধরের ঘটনার।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার পর ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ঘটে এবং এতে কোনো নারী জড়িত ছিলেন না। এছাড়া বিএনপির মতিঝিল ও পল্টন থানা কমিটির তালিকায় শিবলুর রহমান শিবু নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, কেরামত আলীর ভিডিওতে মিথ্যা বর্ণনা ও ভিত্তিহীন রাজনৈতিক পরিচয় জুড়ে প্রচার করা হয়েছে।

এমএম/আরএ