হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার নথিভুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
“হলি আর্টিসান হামলায় আজমেরী হক বাঁধন জড়িত ছিল। এই মর্মে নিহত ৯ ইতালীয় নাগরিকের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ দায়ের।”
সম্প্রতি ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন আওয়ামীপন্থী ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে এমন দাবি সংবলিত পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এধরনের কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। এই দাবিটি প্রথম ছড়ান আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত।
তবে বেঙ্গল লেন্সের যাচাইয়ে আজমেরী হক বাঁধন হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা এ ঘটনায় নিহত নয় ইতালীয় নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড সার্চ করে দেশীয় গণমাধ্যমেও এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় মামলার নথিভুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করলেও বাঁধনের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় ৭ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট সেই সাজা কমিয়ে ৭ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
অর্থাৎ, হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সম্পৃক্ততা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ইতালীয় ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ দায়ের- এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে হলি আর্টিজান হামলার মতো একটি গুরুতর জঙ্গি হামলার সঙ্গে বাঁধনকে জড়ানোর দাবিটি প্রমাণহীন।
প্রসঙ্গত, ইতালির ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধন তার ভাইয়ের ফ্যামিলির সাথে পার্কে হাঁটতে গেলে বাংলাদেশ সময় ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় তাকে ইতালিতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হেনস্তা ও মারধর করেন। মারধরের পর পলাতক সন্ত্রাসীরা এই হেনস্তার ঘটনা উদযাপন করেন।